সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়ে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি—এ কথা স্পষ্ট করে জানালেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সময় যেসব বিষয়ে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে, সেগুলোতে দলটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে এবং তা জুলাই সনদের বইয়েই উল্লেখ রয়েছে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জিয়া পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আপনারা জানেন জুলাই সনদ, সংবিধান সংশোধন এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। তর্ক-বিতর্ক অবশ্যই ভালো কিন্তু অপপ্রচার, মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা এটা কখনোই ভালো হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা—জুলাই সনদের প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা ছিলাম। আমাদের দল থেকে যে দুইজন স্বাক্ষর করেছেন, আমি আর সালাউদ্দিন সাহেব সব স্বাক্ষর করলাম। তার আগে জুলাই ঘোষণা, সেটাও আমরা একসঙ্গে ড্রাফট দিয়েছি।”
বিএনপি মহাসচিব জানান, আলোচনার শুরুতেই দলটি পরিষ্কার করে দিয়েছিল—যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হবে না, সেগুলোতে তারা ভিন্নমত জানাবে। “আমরা তো পরিষ্কার করে বলেছিলাম—আলোচনার মধ্যে যেগুলোতে আমরা একমত হব না সেগুলোতে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দেব। জুলাই সনদের মধ্যে তা আছে। তখনই কিন্তু আমরা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলাম এ বিষয়ে।”
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, কিছু পক্ষ এখন দাবি করছে সব সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে হবে, যদিও আলোচনায় এমন বেশ কিছু বিষয় ছিল যেখানে বিএনপি সম্মতি দেয়নি। বিশেষ করে নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাইরে গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবে দলটি আপত্তি জানায়।
তার ভাষায়, “আমরা এটার সঙ্গে একমত একেবারেই হয়নি। কারণ এটার কোনো নজির নেই। আমরা বলেছিলাম নির্বাচন হবে, নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ গঠন করবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। যা যা পরিবর্তন আনার বা সংশোধন করার প্রয়োজন হলে তারাই সেটা করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয় ঘিরে এখন মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে এবং তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। “উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদের করতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন প্রচারণারও সমালোচনা করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি তো হচ্ছে সংস্কারের জনক, সংস্কারের নামে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দল বর্তমানে যে আন্দোলন করছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করা।”
দেশের অগ্রগতির জন্য সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।
ভিওডি বাংলা/এমএস







