ডিসি সম্মেলন, আলোচনায় যেসব প্রস্তাব

মাঠ প্রশাসনের নানা চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন ভাবনা সামনে রেখে রোববার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন—যেখানে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের শত শত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হবে।
এবারের সম্মেলনে আটজন বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জন জেলা প্রশাসকের দেওয়া মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়েই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শনিবার (২ মে) সচিবালয়ে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এসব প্রস্তাবে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, নাগরিক দুর্ভোগ হ্রাস, অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যটন বিকাশ, আইন ও বিধিমালা সংশোধনসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির জানান, সবচেয়ে বেশি—৪৪টি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে।
উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রংপুর বিভাগে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল চালু, জেলা-উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পরিশোধনাগার স্থাপন এবং গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে শিল্পকারখানা স্থানান্তর।
এ ছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সংস্কার, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টি, সরকারি স্কুলে আইসিটি, ধর্ম ও গ্রন্থাগার বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে।
শিক্ষা খাতে দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা চালু, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সরকারি ডোমেইন ব্যবহার, কওমি মাদরাসার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং সিলেটের চা-বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
আইন ও প্রশাসন খাতে দেওয়ানি আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আপিলের ক্ষেত্রে তামাদি মওকুফ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জিপি, এডিশনাল জিপি ও এজিপি নিয়োগ এবং ভূমি-সংক্রান্ত সব আইন একত্রিত করে সংকলন তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সিলেট-ওসমানী বিমানবন্দর সড়কে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থনীতি ও রাজস্ব খাতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে নীতিমালা প্রণয়ন, কৃষিখাতে স্বল্পসুদে ঋণ, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান যাচাইয়ে ল্যাব স্থাপন এবং কক্সবাজারে লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে।
এছাড়া মৎস্য ও কৃষিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিকল্প কর্মসংস্থান, হাওড়ে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম এবং পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনে ঋণ সুবিধার বিষয়ও উঠে এসেছে।
প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সেবা খাতে জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার, সমবায় ডেটাবেজ, অনলাইন প্রকল্প ডাটাবেজ, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জল সরবরাহ প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ খাতে বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিজ্ঞান গবেষণাগার, প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র, ইনডোর স্টেডিয়াম এবং দুর্গম এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, কারাগার হাসপাতালের জনবল বৃদ্ধি, হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারি অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার সমাধানে কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







