• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

পদত্যাগপত্র জমা দিলেন জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক

‎জবি প্রতিনিধি    ৪ মে ২০২৬, ১০:৪৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত


‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

‎সোমবার (৪ মে) তিনি জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম-এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভিপি।

‎পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে নাঈম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। “ক্যাম্পাসে এলেই সেই ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত মনে পড়ে। নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হয়। এই মানসিক চাপ নিয়ে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” বলেন তিনি।

‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রথমে আশাব্যঞ্জক মনে হলেও পরবর্তীতে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর করে তুলেছে। “যদি বহিষ্কারের পরও সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে সেটি আদৌ বহিষ্কার কিনা এই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক,” বলেন তিনি।

‎নাঈম দাবি করেন, জকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়েছিল অভিযুক্তের স্থায়ী বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন তিনি। তার মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্যই সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

‎তিনি বলেন, “প্রকৃতির একটা বিচার আছে। আমি আমার বিচার মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে ছেড়ে দিলাম।” একই সঙ্গে সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

‎এদিকে পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পদত্যাগের খবরটি পুরোপুরি সঠিক নয়। “নাঈম একটি আবেদন জমা দিয়েছেন ঠিকই, তবে সেটি এখনো গ্রহণ বা অনুমোদন করা হয়নি। তিনি এখনো জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেই বহাল আছেন,” বলে জানান তিনি।

‎অন্যদিকে, চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী-কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কার করে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন । তবে বহিষ্কারের পরদিনই আজ তাকে ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

‎জকসুর এজিএস মাসুদ রানা এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “একদিকে বহিষ্কার, অন্যদিকে পরীক্ষা এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”

‎উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল (বুধবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমকে চড় মারেন সাদিয়া সুলতানা নেলী। ঘটনাটি মুহূর্তেই ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার শুরু হয়।

‎ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নাঈম কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জকসুর পক্ষ থেকে দুই দফা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিক বাস আমদানি করলে শুল্ককর লাগবে না
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিক বাস আমদানি করলে শুল্ককর লাগবে না
বুলিং-ইভটিজিং ঠেকাতে ৫১৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসছে সিসিটিভি
বুলিং-ইভটিজিং ঠেকাতে ৫১৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসছে সিসিটিভি