বিধানসভা নির্বাচন
যে সাহসী সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক সাফল্য পেলেন বিজয়

মাত্র দুই বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় তামিলনাড়ুতে বড়সড় আলোড়ন তুলেছেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। এ প্রেক্ষাপটে ছেলের সাফল্য নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজয়ের বাবা, প্রখ্যাত নির্মাতা এস এ চন্দ্রশেখর।
তিনি বলেন, বিজয়ের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি, বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার ফল।
চন্দ্রশেখরের কথায়, ‘একজন মানুষ শুধু শিল্পী হলেই হয় না, সমাজের জন্য ভাবনা থাকতে হয়। গত ৩০ বছর ধরে ওর (বিজয়) মনে ছিল তামিলনাড়ুর জন্য কিছু করার বাসনা। আজ সেই পথেই এগোচ্ছে বিজয়, সে এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।’
তিনি আরো জানান, রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই বিজয়ের আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। জোট না করে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালে দল গঠনের সময় থেকেই বিজয় ঘোষণা দেন, তিনি নিজের শক্তিতেই লড়বেন। কোনো জোট নয়, এককভাবেই লড়াই করবেন। তার বাবার মতে, এই সাহসী সিদ্ধান্তই আজকের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। এখনো সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও টিভিকে প্রায় ১০৮ আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও কয়েকটিতে এগিয়ে থেকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে জোট সমর্থন পেলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুব কাছাকাছি।
বিজয়ের জনপ্রিয়তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তার বাবা। তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ুর মানুষ ওকে শুধু নেতা হিসেবে দেখেন না, কেউ ছেলের মতো, কেউ ভাইয়ের মতো, কেউ আবার নাতির মতো মনে করেন। এই আবেগই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি।’
এই আবেগঘন সংযোগই নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকে ছেলের পথচলা কাছ থেকে দেখেছেন চন্দ্রশেখর। তার মতে, বিজয়ের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব। তিনি দাবি করেন, তামিল চলচ্চিত্র জগতে বিজয়ের সময়নিষ্ঠা বা কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না।
বিজয়ের মা শোভা চন্দ্রশেখরও ছেলের এই সাফল্যে ভীষণ আনন্দিত। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি শুধু মা নন, বিজয়ের প্রথম ভক্তও। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার নেতৃত্বে তামিলনাড়ুতে বড় পরিবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
এই নির্বাচনের ফল তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় রাজনীতির সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই টিভিকের এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, চলচ্চিত্র তারকার জনপ্রিয়তা এখন সরাসরি রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ নিচ্ছে। বিজয় এখন সেই কাতারে জায়গা করে নিচ্ছেন, যেখানে আগে ছিলেন এন টি রামা রাও, এম জি রামাচন্দ্র এবং জে ললিতার মতো কিংবদন্তিরা।
ছেলের এমন সাফল্যে চন্দ্রশেখরের মন্তব্য, ‘আজ যে জায়গায় ও দাঁড়িয়েছে, সেটা শুধু শুরু। সামনে আরও বড় দায়িত্ব অপেক্ষা করছে।’
ভিওডি বাংলা/ এফএ







