মধুপুরে নারী-কিশোরীদের আয়বর্ধন ও অধিকার সুরক্ষা সহায়তা প্রদান

টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষা, মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মধুপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা ‘নাগরিক উদ্যোগ’। প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আচিক মিচিক সোসাইটি এবং অর্থায়ন করে ফাউন্ডেশন ফর এ জাস্ট সোসাইটি (এফজেএস)।

“সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষা এবং মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সরকারি ও বেসরকারি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন। তিনি বলেন, নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হলে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন সবসময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা হুসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমীন সুলতানা সুমি, আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং এবং নাগরিক উদ্যোগের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভিন। বক্তারা ভবিষ্যতেও আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসময় বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, আচিক মিচিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা ন্যান্সি নকরেক।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ জন প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাকে আয়বর্ধক কার্যক্রম (আইজিএ) পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ চা ও মুদি দোকান সম্প্রসারণ, কেউ দর্জি কাজ, আবার কেউ তাঁত ও কাপড় বয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই সহায়তা পেয়েছেন।
উপকারভোগীদের মধ্যে বাসন্তী রেমা, কনিকা দালবত, মেজিতা জেত্রা ও ফ্রান্সিলা নকরেকসহ কয়েকজন নারী জানান, এই সহায়তা তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে উৎসাহ জোগাবে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভিওডি বাংলা/মো. লিটন সরকার/জা







