বিপিএলে জুয়া: ক্রিকেটার ও টিম মালিকসহ বহিষ্কার ৪

বিপিএলের সবশেষ দ্বাদশ (২০২৫-২৬ মৌসুম) আসরে দুর্নীতির অভিযোগে। চিটাগং রয়্যালসের লজিস্টিক ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান (সামিনুর রহমান), নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহমালিক মো. তৌহিদুল হক, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার ও সিলেট টাইটানসের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আচরণবিধির বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ ব্যবস্থা গ্রহজণ করা হয় বলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
একইসঙ্গে অভিযুক্ত চারজনকে জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, কথিত বেটিং-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, দুর্নীতিমূলক যোগাযোগ, কোডের ৪.৩ ধারার অধীন জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার তদন্তে অসহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিপিএলের ৯ম, ১০ম, ১১তম আসরসহ একাধিক আসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমের তদন্তের পর তার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ বিপিএলে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন মূল বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল।
এর আগে একাদশ বিপিএলে ওঠা ফিক্সিংয়ের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান ফাহিম সিনহাকে সঙ্গে নিয়ে করা আজকের সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ আসরের আরও কিছু অনিয়ম তুলে ধরেন তামিম। এসব অনিয়মের কথা এর আগেও বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তবে বিসিবি থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে বিসিবি সভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলেরও প্রধান ছিলেন তিনি। সদস্যসচিব ছিলেন ইফতেখার রহমান।
দ্বাদশ আসরের অনিয়ম সম্পর্কে তামিম বলেন, ‘অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, ইওআইর আগে দুজন ব্যক্তির ব্যাপারে ইন্টেগ্রিটি ইস্যু বলে বলা হয়েছিল তাদেরকে যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেওয়া হয়। কিন্তু তখনকার গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন নাকি খুব জোর করে একজনকে বাধ্য করেছে তাদেরকে টিম দিতে এবং আরেকজনের ক্ষেত্রে একটু লিনিয়েন্সি শো করে। ওই ব্যক্তি নিজে সামনে না থেকে পেছনে থেকে আরেকজনকে সামনে দিয়ে দিয়েছে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘সবচেয়ে বিস্ময়কর জিনিস যেটা দেখলাম, দুটি দলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত চুক্তিই হয়নি, অথচ একটা সংস্করণ খেলে ফেলেছে!’ ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটির নামও বলেছেন তামিম—সিলেট টাইটানস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
তামিমের প্রশ্ন, ‘কেন আপনারা এই টিমগুলোকে দিচ্ছেন যাদেরকে নিয়ে অবজেকশন আছে? এটার পেছনে কি কারণ, কারা এটার সাথে জড়িত? এই জিনিসগুলো তুলে ধরার এটাই সময়। যদি (বিপিএল) পরিচ্ছন্ন করতে হয়, উপর থেকে নিচে পর্যন্ত প্রত্যেকটা জায়গায় ধরতে হবে। কারণ বিসিবি সব দিক থেকে এই জায়গাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
এসবে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বা সব ঠিক না হলে বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত অন্তবর্তী বোর্ড নেবে কিনা, এমন এক প্রশ্নে তামিম বলেছেন, ‘একদমই না। আমি এই সিদ্ধান্ত নিব না। যেটা করার সময় আমার হাতে নেই ওরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমি নিব না। তবে এই জিনিসগুলো প্রকাশ করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন বিপিএল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা জানার অধিকার সবাই রাখে।’
তামিমের আশা ভবিষ্যতে যারাই বোর্ডে আসবেন, এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এফএ







