যেসব শর্ত পূরণ না হলে বিশ্বকাপ খেলবে না ইরান

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন। স্বাগতিক রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে কঠোর ৭টি শর্ত আরোপ করেছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির জাতীয় আদর্শ, সার্বভৌমত্ব এবং খেলোয়াড়দের সম্মান রক্ষা না হলে তারা এই বিশ্ব আসরে পা রাখবে না।
শনিবার (৯ মে) ইরান ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই অনড় অবস্থানের কথা জানানো হয়।
ফেডারেশন প্রধান মেহেদি তাজ বলেন, আমরা অবশ্যই ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাই। তবে আমাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। আয়োজক দেশগুলোকে আমাদের উদ্বেগ ও শর্তগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
ইরানের উত্থাপিত শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান হলো- জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ তারকা মেহেদি তারেমি ও এহসান হাজসাফিসহ যেসব সদস্য একসময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রদান করতে হবে। এছাড়া ভিসা পাওয়ার পর বিমানবন্দরে মার্কিন ইমিগ্রেশন বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ইরান দাবি করেছে, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল ও স্টেডিয়াম পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ স্তরের প্রোটোকল দিতে হবে। গ্যালারিতে কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারি পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে এবং অন্য কোনো ‘রাজনৈতিক’ পতাকা প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের রাজনৈতিক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকার শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
গত সপ্তাহে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার সাধারণ সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় মাঝ আকাশেই বাতিল করা হয় মেহেদি তাজের ভিসা। আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠায় কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পর থেকেই তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে খেলোয়াড়দের বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কাউকে তারা তাদের ভূখণ্ডে ঢুকতে দেবে না।
ভিওডি বাংলা/এফএ







