• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নাগরপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে ৯ গ্রামের মানুষ

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    ১০ মে ২০২৬, ০২:২৯ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা
ছবি-ভিওডি বাংলা

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সেতুর অভাবে কমপক্ষে ৯টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজারো পথচারী ও স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা কষ্টের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। জনদুর্ভোগ লাগোবে এখনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নে পংবাইজোড়া, দেইল্লা সড়ক ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর প্রায় পাঁচ বছর আগে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। বর্তমান সময়ে বাস ও কাঠ দিয়ে নির্মিত নড়বরে সাঁকোটিই ওই ৯ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, এখান দিয়ে ২০ বছর আগে ধলেশ্বরী নদী বহমান ছিল। নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে এখান থেকে আরও পূর্বদিকে সরে গেছে। আর এখানে রেখে গেছে সরু খালের মতো শাখা নদী। নদীর পাশেই জেগে উঠা চরে ধীরে ধীরে মানুষ তাদের বসতি গড়তে শুরু করলেও শুধুমাত্র সেতু অভাবে অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। 

মোকনা ইউনিয়নের লাড়ুগ্রামের এই অংশেই সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আর এখন এই ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ ৭টি গ্রামের জনগণের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ও গ্রামে অবস্থিত স্কুল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী সহ সকলের একমাত্র সড়কটি হয়ে উঠেছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর এ পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কটি। এই সড়ক দিয়ে পংবাইজোড়া, লাড়ুগ্রাম, দেইল্লা, স্বল্প লাড়ুগ্রাম, চৌহালী পাড়া, পংবড়টিয়া ও ঘুণি গ্রামের স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার পথচারী প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। সেতু না থাকার কারণে বর্ষা মৌসুমে নৌকাযোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। অপরদিকে আবাদি কৃষিপণ্য কেনা বেচায় চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের। 

স্থানীয় মো. বিল্লাল মিয়া (৪২) ও মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫) বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি। সব এলাকার উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকার উন্নয়ন হয় না। আমরা শুধু একটি সেতুর অভাবে পিছিয়ে আছি। বিগত সরকারের আমলে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও আমরা বানে ভেসে চলছি। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিন খান রাজা বলেন, পাঁচ বছর আগে স্থানীয়ভাবে আমরা এখানে একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ করি। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই আমাদেরকে চলাচল করতে হচ্ছে।

ইতোপূর্বে ভোটের জন্য নেতারা এসে কথা দিলেও বাস্তবে কোন কাজের কাজ হয়নি। তবে ইতিপূর্বে ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ ও রাস্তার উন্নয়ন কাজে বর্তমান সাংসদ রবিউল আউয়াল লাভলু ডিও লেটার দিয়েছেন।

মো. শাহজাহান মিয়া (৫৬) চানপাড়ার বসতি বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। গুরুতর রুগি, প্রসূতিসহ জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া সম্ভব হয় না। এমনকি ভারী বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমে যায়, এই সাঁকোটির দু'পাশেই রয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। 

মোকনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “সেতু নির্মাণের দাবি ইতিমধ্যে একাধিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পত্র, দরখাস্ত প্রেরণ করা হয়েছে শুধু সময়ের অপেক্ষা। পংবাইজোড়া, দেইল্লা সড়কে জরুরি ভিত্তিতে সেতু নির্মাণের দাবি এখন তাদের প্রাণের দাবি বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।”

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
ছবি: ভিওডি বাংলা
জমি নিয়ে বিরোধ, ‘আত্মহত্যা’ সাজাতে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয় লাশ
গাঁজাসহ আটক আর্জেন্টিনা সমর্থক
১ কেজি গাঁজাসহ ডিবির ফাঁদে আর্জেন্টিনা সমর্থক