সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ব্যয় সাড়ে ৪ কোটি টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোট ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা ব্যয় করেছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে জামায়াতের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় দলের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল।
এবারের নির্বাচনে জামায়াত ২২৭টি আসনে প্রার্থী দেয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী দলটির সর্বোচ্চ সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ ছিল।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “ইসি সচিবের কাছে জামায়াতের নির্বাচনি ব্যয়ের প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যয়সীমা ছিল সাড়ে চার কোটি টাকা, আমাদের দলের খরচও তাই হয়েছে। এর মধ্যে প্রার্থীদের অনুদান দেওয়া হয়েছে চার কোটি টাকা। আর প্রচারের নানা খাতে বাকি খরচ রয়েছে।”
জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২২৫ জন প্রার্থীকে অনুদান হিসেবে মোট ৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি প্রার্থী গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে সহায়তা পেয়েছেন।
এছাড়া নির্বাচনি ইশতেহার ডিজাইন ও ছাপা, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন, আপ্যায়ন, নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর এবং বিজ্ঞাপন বাবদ বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে।
খাতভিত্তিক ব্যয়ের মধ্যে নির্বাচনি প্রচারে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮২৭ টাকা, পরিবহন খাতে ৮ হাজার ৭০০ টাকা, জনসভা ও সফর বাবদ ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৯৯ টাকা, স্টাফ খরচ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টাকা এবং আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ টাকা ব্যয় করেছে দলটি। এছাড়া বিবিধ খরচ হিসেবে আরো ২ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি জামায়াত। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন পুনর্বহাল হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬৮টি আসন পেয়ে বর্তমানে বিরোধীদলে রয়েছে জামায়াত।
এর আগে ইসিতে জমা দেওয়া দলটির সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে জামায়াতের আয় ছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা। বিপরীতে একই সময়ে দলটির ব্যয় ছিল ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা।
ভিওডি বাংলা/এসআর







