নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধের সুপারিশ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধসহ একাধিক জরুরি সুপারিশ উঠে এসেছে এক মতবিনিময় সভায়।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীর ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংবাদিক ও সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান বলেন, ঈদযাত্রায় রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি প্রতিবছরই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে ও পরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় ডিজিটাল বুথ চালু করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরি।
সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) সাধারণ সম্পাদক ও ইউএনবির বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মহাসড়কে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন এবং টার্মিনাল থেকেই ফিটনেসবিহীন বাস বের হওয়া বন্ধ করতে হবে।
দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোল প্লাজা ও ব্রিজ এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার নেয়। তাই টোল বুথ বাড়িয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অনেকেই পার পেয়ে যাচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা জরুরি।
জাগোনিউজ২৪ ডটকমের তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পাশাপাশি কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদনও নিয়মিত হওয়া উচিত।
সভায় আরও বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট লেন নির্ধারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া রোডক্র্যাশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও গণমাধ্যম—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ভিওডি বাংলা/এমআই/এমএস







