কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জলাবদ্ধতায় ২ বিদ্যালয় অচল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জলাবদ্ধতায় বন্দী হয়ে পড়েছে ২টি বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয় দুটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক থাকলেও মাঠজুড়েই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেন নদীর উপরই দাঁড়িয়ে আছে দুটি বিদ্যালয় ও একটি ঈদগাহ মাঠের মিনার।
এমন চিত্র চোখে পড়ে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়ের লম্বা মাঠজুড়েই পানিতে টইটম্বুর। পাশের বাজার থেকে দেখলে মনে হবে এক খণ্ড বহতা নদী। নদীতে সাঁতার কাটছে হাঁস ও মাছ। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে বিদ্যালয়ের আশেপাশের ফসলি জমি উপচে বিদ্যালয় মাঠ ও বারান্দায় সৃষ্টি হয়েছে এই জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। ফলে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের পাশের সড়কে একটি কালভার্ট থাকলেও সেটি কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। এতে পথচারীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটলে তা বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা। পরে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজের জন্য বালু ফেলেন কর্তৃপক্ষ। তবে কালভার্টের জায়গায় নতুন কালভার্ট না করতেই কালভার্টের মুখের দুই পাড়ের জমিতে বসতবাড়ি করার জন্য বালু ফেলেন জমির মালিক। এতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বেশ কিছুদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিদ্যালয়ের আশপাশসহ বিদ্যালয় মাঠেও জমে গেছে প্রায় হাঁটু পানি। এতে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজ। এ অবস্থায় মোবাইল ও মাদকাসক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়রা জানান, এই মাঠে প্রতি বছর ২ ঈদের নামাজ পড়তেন হাজারও মুসল্লী। জলাবদ্ধতায় এ বছর আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ এই মাঠে আদায় করা যাবে কি না, এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের।
সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনা খাতুন রিতু, রুকাইয়া খাতুন, মায়া খাতুন ও দশম শ্রেণির রমজান আলী জানান, জলাবদ্ধতার ফলে তারা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না। আসলেও পিছলে পড়ে ভিজে যায় বই, খাতা, ব্যাগ ও ইউনিফর্ম।
সহকারী শিক্ষক নূর ইসলাম মণ্ডল জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বেড়েছে মশা, মাছি, জোঁক ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব। পাঠদান করতে গিয়ে মশা-মাছির উপদ্রব ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও পানিতে বিভিন্ন জীবাণু থাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, চুলকানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি জানান, বিদ্যালয়ের পাশে কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর আর কোনো কালভার্ট নির্মিত না হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ.এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং আমার পক্ষ থেকেও সার্বিকভাবে সহযোগিতা থাকবে।
ভিওডি বাংলা/জাহাঙ্গীর আলম/এমএস







