দৈনিক ২৫ কেজি ঘাস খাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে অ্যালবিনো জাতের বিরল সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ভিন্নধর্মী চেহারার এই প্রাণীটিকে দেখতে ঈদের ছুটিতেও ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। একই সঙ্গে মহিষটির খাবার, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার (২৭ মে) রাতে প্রাণীটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনার পর থেকেই শুরু হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা।
চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ২৫ কেজি নেপিয়ার জাতের সবুজ ঘাস খাচ্ছে এই আলোচিত মহিষটি। পাশাপাশি দৈনিক পাঁচ কেজি ছোলা ও ভুসির মিশ্রণও দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শরীরের পানির চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় আধা মণ বা ২০ কেজি পানি পান করছে প্রাণীটি। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও একই পরিমাণ খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে খাদ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
চিড়িয়াখানার নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম দফায় ছোলা ও ভুসিজাতীয় খাবার দেওয়া হয়। এরপর সকাল ১১টায় পরিবেশন করা হয় ঘাস। দুপুরের পর আবার দ্বিতীয় দফায় ঘাস খাওয়ানো হয় এবং বিকেল ৩টার দিকে দেওয়া হয় দিনের শেষ খাবার হিসেবে ছোলা-ভুসি। এরপর আর ভারী খাবার দেওয়া হচ্ছে না।
বর্তমানে মহিষটিকে চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাঁচার বাইরে তার পরিচিতি ফলকে বাংলা ভাষায় ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ এবং ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’ লেখা রয়েছে।
পাকা মেঝে ও টিনের ছাউনি দেওয়া বড় খাঁচাটির পাশেই রয়েছে একটি উন্মুক্ত অংশ, যেখানে একটি গয়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছুটা বেঁধে রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, গৃহপালিত পরিবেশে বড় হওয়ায় বাঁধা অবস্থাতেই প্রাণীটি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
তীব্র গরমে প্রাণীটিকে স্বস্তি দিতে দিনে দুই থেকে তিনবার পাইপের পানি দিয়ে গোসল করানো হচ্ছে। কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, গরম থেকে সুরক্ষা দিতে খুব শিগগিরই খাঁচায় একটি স্ট্যান্ডফ্যান স্থাপন করা হবে।
নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে মহিষটিকে খাঁচার সীমানা দেয়াল থেকে ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরে রাখা হয়েছে। ফলে অনেক দর্শনার্থী কাছ থেকে দেখতে না পেরে কিছুটা হতাশ হচ্ছেন। তবে ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও প্রাণীটিকে দেখতে মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এই আলোচিত মহিষটির পেছনের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার জিয়া উদ্দিন মৃধার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ জন্ম ও বেড়ে ওঠা মহিষটির মাথার চুলের স্টাইল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের সঙ্গে মিল থাকায় তার ভাই শখ করে নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
গত ১২ মে প্রথম আলোতে এই মহিষকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
পরে কোরবানির উদ্দেশ্যে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মহিষটি কিনে নেন এবং গত সোমবার সেটিকে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত প্রাণীটির গুরুত্ব বিবেচনায় ঈদের আগের দিন বুধবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ সেটিকে উদ্ধার করে। প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় নেওয়া হলেও পরে স্থায়ীভাবে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হয় সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কে।
ভিওডি বাংলা/এমএস






