• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী মব তৈরি করে ‘চোরাই পণ্যের গাড়ি’ ছিনতাই, পিছু হটল বিজিবি ভুল ট্রেনে উঠে পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশুকে ফিরিয়ে দিল আনসার ‘জেড’ থেকে ‘ওয়াই’, সৌরভের নিরাপত্তা কমাল প্রশাসন ঢাকা উত্তর ও দক্ষীণ সিটিতে দুই শিফটে চলবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সারিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অনুমোদনহীন ট্রাভেলসকে জরিমানা জলাবদ্ধতা ও সড়ক সংস্কারে ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় ডিএসসিসি মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আলোচিত বৃদ্ধার মৃত্যু, যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেন হান্নান মাসউদ: রাশেদ খান

ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ৮৯ মরদেহ ‘বিক্রি’ করেছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষার উদ্দেশ্যে দান করা মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) ও মার্কিন নৌবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বহু মরদেহ সরবরাহ করা হয়েছিল, যার সঙ্গে ইসরায়েলি চিকিৎসক দলগুলোর সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।

নেভাদার বাসিন্দা ও মেডিক্যাল কেস ম্যানেজার মরিয়ম ভলপিন কর্মস্থলে থাকাকালে একটি বার্তা পান। বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউএসসি) শিক্ষানবিশ সাংবাদিক জেনিফার নেহরার। তিনি এমন একটি অনুসন্ধানী দলের সদস্য ছিলেন, যারা খতিয়ে দেখছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দান করা মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে কি না এবং সেগুলোর কিছু ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের প্রশিক্ষণেও ব্যবহৃত হয়েছে কি না।

মরিয়ম ভলপিন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘খবরটি শুনে আমার পেট মোচড় দিয়ে উঠেছিল এবং আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলাম।’

২০২১ সালে ১০১ বছর বয়সে মারা যান তাঁর মা জ্যানেট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমানবাহিনীর নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জ্যানেট মৃত্যুর আগে নিজের মরদেহ ইউএসসিতে দান করার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন।

এখন মরিয়মের আশঙ্কা, তাঁর মায়ের মরদেহও হয়তো ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে গাজার মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য যে ধরনের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তার অংশ হিসেবে এ ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘ডাইরেক্ট ফ্রম’ মরিয়মসহ এমন আরও কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে, যারা উদ্বিগ্ন তাঁদের প্রিয়জনদের দান করা মরদেহের অবশিষ্টাংশ ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে কি না।

একই সঙ্গে ২০২৫ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসা শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেছে ডকুমেন্টারি টিম। তাঁদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরায়েলি সার্জন দলগুলোর জন্য মরদেহ সরবরাহ করেছিল। এর একটি ছিল ইউএসসি।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য অন্তত ৮৯টি তাজা মরদেহ সরবরাহ করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত হলেও ২০২০ সালে ইউএসসি ও মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশিক্ষকদের যৌথভাবে লেখা একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধে এ কর্মসূচির কিছু বিবরণ পাওয়া যায়।

লাশের ‘পুনরুজ্জীবন’ ও যুদ্ধক্ষেত্রের অনুকরণ

গবেষণা প্রবন্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘ফরোয়ার্ড সার্জিক্যাল টিম’-এর জন্য পরিচালিত চার দিনের ‘কমব্যাট ট্রমা সার্জারি স্কিলস কোর্স’-এর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের একেবারে সম্মুখভাগে কাজ করা এসব চিকিৎসা দলকে বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এ প্রশিক্ষণে পারফিউশন পদ্ধতির মাধ্যমে দান করা মরদেহগুলোতে কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন করা হয়। ফলে সেগুলোকে জীবিত মানুষের মতো দেখানো সম্ভব হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের শরীর থেকে রক্তক্ষরণের অনুরূপ পরিবেশ তৈরি করা হয়।

গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণার্থীদের গুলিবিদ্ধ হওয়া, বুকে ও পায়ে আঘাত পাওয়া এবং আইইডি বিস্ফোরণে মুখ ও ঘাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে চিকিৎসা দেওয়ার অনুশীলন করানো হয়।

মরদেহে কীভাবে এসব কৃত্রিম আঘাত তৈরি করা হয়েছিল—এ বিষয়ে বারবার জানতে চাইলেও ইউএসসি কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, এসব আঘাত ‘শল্যচিকিৎসাসংক্রান্ত’ কৌশল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে নৌবাহিনী বলেছে, ‘এ প্রশিক্ষণ চলাকালে অভিজ্ঞ ট্রমা সার্জনরা শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতির সাহায্যে জটিল আঘাতের ধরনগুলো তৈরি করেন। এর উদ্দেশ্য হলো, অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত একটি প্রশিক্ষণের পরিবেশ তৈরি করা।’

অন্যদিকে কয়েকজন ট্রমা সার্জনের মতে, কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালন করা মরদেহ সাধারণত অত্যন্ত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সাধারণ সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণে এ ধরনের পদ্ধতি সচরাচর দেখা যায় না।

এক দশকের বেশি সময়ের কার্যক্রম

ফেডারেল চুক্তিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি ইসরায়েলি সামরিক কর্মসূচির জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে মরদেহ সরবরাহ করে আসছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকেরা এরও আগে, ২০১৩ সালে, লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে ইউএসসি ও মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন।

আল-জাজিরার সঙ্গে ই-মেইল যোগাযোগে ইউএসসি এই কোর্সকে ‘সামরিক কর্মসূচি’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির দাবি, এটি একটি ‘শিক্ষামূলক’ কার্যক্রম এবং এতে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি চিকিৎসাকর্মীরা ‘নন-কমব্যাট্যান্ট’ বা বেসামরিক প্রকৃতির ছিলেন।

তবে প্রয়োজনীয় মরদেহ সরবরাহে ইউএসসির পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি)-র সহায়তাও নেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের যৌথ অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত মরদেহের অধিকাংশই এসেছে ইউসিএসডি থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে ইউএসসিতে প্রায় ১২৪টি মরদেহ স্থানান্তর করা হয়েছিল।

তবে ইউসিএসডি আল-জাজিরাকে পাঠানো ই-মেইলে তাদের মরদেহ ‘সামরিক প্রশিক্ষণে’ ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের শব্দচয়ন কোর্সটিকে ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করে।

দাতাদের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মরদেহ দানকারীরা তাঁদের দেহ ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো শর্ত আরোপ করতে পারেন না। এমনকি মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয় না।

আল-জাজিরার পর্যালোচনা করা নথিতে দেখা গেছে, দানসংক্রান্ত কাগজপত্রে কোথাও উল্লেখ ছিল না যে মরদেহ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে।

ইউএসসির সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক মোহাম্মদ রাদ প্রশ্ন তুলেছেন, দাতারা যদি জানতেন তাঁদের মরদেহ পারফিউশনের মতো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে, তাহলে তাঁরা আদৌ এতে সম্মত হতেন কি না।

মোহাম্মদ রাদ বলেন, ‘মৃতদেহের সঙ্গে এমন আচরণ করা কতটা নির্মম, সে আলোচনার চেয়েও আমার কাছে যে বিষয়টি বেশি উদ্বেগের, তা হলো রোগী নিজে কি এটা জানতেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা জানলে তাঁরা কি এতে রাজি হতেন?’

জেনিফার গোমেজের উত্তর এ প্রশ্নে স্পষ্ট। তাঁর নানি জিন ম্যাকনিল সার্জেন্ট ২০১২ সালে ইউসিএসডিতে নিজের শরীর দান করেছিলেন।

গোমেজ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্যদের মরদেহে প্রশিক্ষণ নিতে এখানে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী আসছে, তা আমি ভাবতেও পারিনি। বিশেষ করে এমন এক সামরিক বাহিনী, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং যারা সক্রিয়ভাবে মানুষ হত্যা করছে।’

যদিও তাঁর নানির মৃত্যুর সময় ইউসিএসডি এখনও ইসরায়েলি কর্মসূচির জন্য মরদেহ সরবরাহ শুরু করেনি, তবুও গোমেজ মনে করেন, সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে আগেই দাতাদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার নানির মতো বেশির ভাগ মানুষই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভাবেন যে তাঁরা পৃথিবীর কোনো মঙ্গলের জন্য কিছু একটা করে যাচ্ছেন। কেউ এমনটা ভেবে শরীর দান করেন না যে ‘‘আমি আমার শরীর দান করব আর তা কোনো সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।’’’

সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন অনেকে

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শরীর দানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন অনেকেই।

ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ওয়েন্ডি স্মিথ জানান, শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখার পর তিনি নিজের শরীর দানের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।

গত এপ্রিলে আল-জাজিরার প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্মিথ বলেন, ‘আমি গণহত্যা ও অনাহারকে সমর্থন করতে চাই না। এমনকি ক্ষুদ্রতম কোনো উপায়েও আমি ইসরায়েলের নীতিকে সমর্থন করতে প্রস্তুত নই।’

সুত্র: আল-জাজিরা 

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা
কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা
হরমুজ খুললেও ইরানের নিষেধাজ্ঞা উঠবে না: রুবিও
হরমুজ খুললেও ইরানের নিষেধাজ্ঞা উঠবে না: রুবিও