‘৩ কোটি টাকা’ চাঁদা দাবি
হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা

নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদের বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল।
অভিযোগকারী ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।
সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। এ কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। এ কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি (হান্নান মাসউদ) নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন তাতে আমি বাধা দেই।’
ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার অভিযোগ করেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, তার ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’
গাফফারের ভাষ্য, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়।’
তিনি বলেন, ‘বাড়িতে আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন থাকেন। তারা এখনো ভয়ে আছেন। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দেই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্টেটমেন্ট দেওয়ায় গত দুদিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দেন হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপি নেতাকর্মীরা। যারা হুমকি দিয়েছেন তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে না যে এটা এনসিপির নেতাকর্মী করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেবো, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। স্থানীয় এমপি ফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলো ট্যাকেল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করবো কেন? পুরো একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’
হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছেন। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালা ভেঙে যায়। তবে কে মেরেছে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিওডি বাংলা/এফএ







