• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ঘুমের শত্রু ছারপোকা

লাইফস্টাইল    ৬ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এ.এম.
বিছানা, সোফা কিংবা লাগেজ—ছারপোকা লুকিয়ে থাকতে পারে নানা জায়গায়। ছবি: সংগৃহীত

ছোট্ট একটি পোকা, কিন্তু এর কারণে নষ্ট হতে পারে রাতের আরামদায়ক ঘুম। ছারপোকা এমন এক ধরনের পোকা, যা মানুষের বসবাসের পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আকারে ছোট হওয়ায় সহজে চোখে পড়ে না, তবে একবার বাসা বাঁধলে এদের নির্মূল করা বেশ কঠিন হয়ে যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়ে সময়েই ছারপোকার উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। কয়েক বছর আগে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে প্যারিসে, এই পোকাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গণপরিবহন, হোটেল ও আবাসিক এলাকায় ছারপোকার উপস্থিতির খবর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা তখনও সতর্ক করেছিলেন, পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সচেতনতার অভাব থাকলে যে কোনো জায়গায় এদের বিস্তার ঘটতে পারে।

বাংলাদেশেও ছারপোকা নতুন কোনো সমস্যা নয়। ছাত্রাবাস, মেস, পুরোনো ভবন কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা আসবাবপত্রে প্রায়ই এদের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে একটি কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে কিংবা লাগেজের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এই পোকা।

ছারপোকা সাধারণত ডিম্বাকৃতির এবং পাখাবিহীন। পূর্ণবয়স্ক ছারপোকার রং লালচে-বাদামি হয়ে থাকে। দিনের বেশিরভাগ সময় তারা আড়ালে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলায় সক্রিয় হয়। মানুষের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করেই এরা বেঁচে থাকে।

অনেকেই মনে করেন ছারপোকা শুধু বিছানাতেই থাকে। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। বিছানার গদি, বালিশের কোণা, খাটের ফ্রেম, সোফা, পর্দার ভাঁজ, দেয়ালের ফাটল, কাঠের আসবাব এবং কাপড়চোপড়ের মধ্যেও এরা আশ্রয় নিতে পারে। ভ্রমণের সময় ব্যবহৃত ব্যাগ বা লাগেজও ছারপোকা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম মাধ্যম।

ছারপোকার কামড় সব সময় সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট লালচে দাগ দেখা গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় এসব দাগ সারিবদ্ধভাবে থাকে এবং তীব্র চুলকানির সৃষ্টি করে। বিছানার চাদরে ক্ষুদ্র রক্তের দাগ কিংবা গাঢ় রঙের ছোট ছোট মলজাতীয় চিহ্নও ছারপোকার উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

স্বস্তির বিষয় হলো, ছারপোকার কামড় সাধারণত বড় ধরনের সংক্রামক রোগ ছড়ায় না। তবে এর ফলে অ্যালার্জি, ত্বকে জ্বালাপোড়া, অস্বস্তি এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠতে পারে।

ছারপোকার কামড়ে আক্রান্ত হলে প্রথমেই আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রয়োজনে ঠান্ডা সেঁক বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছারপোকা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও ব্যবহৃত কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে উচ্চ তাপে শুকানো ভালো। পুরোনো আসবাবপত্র ঘরে আনার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গদি, সোফা ও খাটের কোণ নিয়মিত পরিষ্কার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

সূত্র: বিবিসি

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করুন মাটন কালাভুনা
সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করুন মাটন কালাভুনা
ঈদে যেভাবে ঘরেই তৈরি করবেন কাবাব গোশত
ঈদে যেভাবে ঘরেই তৈরি করবেন কাবাব গোশত
কুরবানির মাংসের স্বাদ ও পুষ্টি ধরে রাখতে যেভাবে ফ্রিজিং করবেন
কুরবানির মাংসের স্বাদ ও পুষ্টি ধরে রাখতে যেভাবে ফ্রিজিং করবেন