৩৪ ঘণ্টা সীমান্তে আটকে নারী-শিশুসহ ১০, মিলছে না সমাধান

পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন মানুষের অনিশ্চিত অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই পরিস্থিতির ৩৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে ওই ১০ জন অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন, যেখানে পানি জমে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাতজুড়ে ভারী বৃষ্টি হলেও নারী ও শিশুসহ সবাই একই স্থানে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তাদের জন্য কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা মাঠে অবস্থান করায় শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
এর আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। ফলে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে।
ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আরও একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএসএফ ওই নারী-পুরুষদের পুনরায় নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারের সঙ্গে স্পট মিটিং করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু বিএসএফ দাবি করেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আমি তাদের বলেছি, যেহেতু তারা ভারতের অভ্যন্তরে ছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (আইসিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে এভাবে ফেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







