• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এ.এম.
রামিসা হত্যা মামলার রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন বেলা ১১টার পর এ মামলার রায় দেবেন বলে জানা গেছে।

রায়ের অপেক্ষায় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন রামিসার বাবা এবং মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লা। আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ হওয়ায় রায়কে ঘিরে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনায় গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার দাবি ওঠে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আটক করে। একই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও। পরদিন নিহত শিশুর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি স্বপ্না আক্তারসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত চলাকালে পুলিশ ডিএনএ নমুনা, ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন প্রমাণাদি পরীক্ষা করে। তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

পরবর্তী ধাপে ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা চান। অপর আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।  

এরপর ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন, বৈজ্ঞানিক আলামত এবং অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণের মাধ্যমে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কাঠগড়ায় দোয়া পড়লেন সোহেল; কাঁদছেন স্বপ্না
কাঠগড়ায় দোয়া পড়লেন সোহেল; কাঁদছেন স্বপ্না
রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে দীপু মনিসহ ৯ আসামি
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে দীপু মনিসহ ৯ আসামি