• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রামিসার রায় শোনার অপেক্ষায় ছিল গোটা দেশ, মৃত্যুদণ্ডে সন্তোষ

আদালত প্রতিবেদক    ৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য ছিল। 

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী কোমলমতি শিশুটির উপর পাশবিক নির্যাতন ও নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন এই রায় শোনার জন্য। অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে তা শোনার আশায় সকাল থেকেই নানা মাধ্যমে এ বিষয়ক খবর জানার চেষ্টা করছিল মানুষ। আর রায়ে সোহেল এবং স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হওয়ায়- উদগ্রীব মানুষ স্বস্তি পেয়েছে।  

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ওই বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী। 

সংশ্লিষ্ট বিচারক মাসরুর সালেকীন মাত্র তিন কার্যদিবসে সাক্ষিদের সাক্ষ্যগ্রহন, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৪ জুন মামলার রায় ঘোষনার দিন ধার্য করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নিযুক্ত স্পেশাল প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু এবং আসামিদেরপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ উভয়েই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

গত ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন শুনানির সময়  বলেন, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার দাবি জানান।

গত ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধি-র ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি সম্পন্ন হয়।  

প্রধান আসামি সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, “আমাকে মাফ করে দেন।” তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার জবাবে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। 

গত ২ জুন একদিনেই মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বোন রাইসা, আত্মীয়- প্রতিবেশীসহ প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষ হয়।

এর আগে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। 

গত ২৪ মে মামলার চার্জশিট দাখিলের পর তা আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। 

মামলা দায়েরের পর তিনদিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে  তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এই ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ভিওডি বাংলা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত বাবা
মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত বাবা
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে দীপু মনিসহ ৯ আসামি
শাপলা চত্বর মামলা: ট্রাইব্যুনালে দীপু মনিসহ ৯ আসামি