অবহেলা করলে চাকরি হারাতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

নাগরিক সেবা কার্যক্রমে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের চাকরি পর্যন্ত যেতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, এতদিন অনেকে ফাঁকি দিয়েছেন। এখন আর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।
সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন নাগরিক সেবা বিষয়ক গণশুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় থাকবে না। সবাইকে জবাবদিহিতার মধ্যে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কথার চেয়ে কাজই বড়। কাজের মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জাতীয় সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্ট্রিট লাইট—এই মৌলিক সেবাগুলোতে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, এসব কাজে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি চাকরিও যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে কর্মীদের উৎসাহিত করতে বোনাস দিয়েছেন, সিটি করপোরেশনও দিয়েছে। এখন যার যে দায়িত্ব, তাকে অবশ্যই তা পালন করতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু দপ্তরে বসে থাকলে হবে না, মাঠে যেতে হবে, জনগণের কাছে যেতে হবে এবং তাদের সমস্যা সরাসরি শুনতে হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে নাগরিক সেবার জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো হবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থাকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
মশক নিধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মশা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য জনগণের অংশগ্রহণ সিটি করপোরেশনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আসন্ন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মৌসুমে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাসা-বাড়ি, ফুলের টব, ফ্রিজের নিচের অংশ ও বাথরুমসহ কোথাও দুই দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকার খালগুলো ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে, কিছু খাল পরিষ্কার করা হলেও আবার দখল হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, খালের পাশে যারা বসবাস করে, অনেক সময় তারাই দখল ও ভরাটের সঙ্গে জড়িত, যা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। ড্রেন ও কভার্ড ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এগুলো দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কার করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের অনেক মার্কেট ও সম্পদ বেনামি দখলে রয়েছে, ফলে করপোরেশন রাজস্ব হারাচ্ছে।
তিনি বলেন, বৈধ আয় বৃদ্ধি করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হবে এবং জনগণের ওপর করের চাপও কমানো সম্ভব হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন চলমান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের গাফিলতিও লক্ষ্য করা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত ঠিকাদারদের অতিরিক্ত টাকা আদায় বা সেবা বন্ধ রাখার অভিযোগ পেলে তাদের চুক্তি বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এমএস







