বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার, ভারতের সঙ্গে সর্বোচ্চ: মন্ত্রী

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির বড় অংশই ভারতের সঙ্গে গত পাঁচ বছরে এ ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আফগানিস্তান, ভুটান ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত দুর্বলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় ধীরগতিই ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
সংসদে দেওয়া তথ্যে গত পাঁচ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ সালে ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ সালে ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ সালে ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ সালে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫.৩৬, ৬০.৯৭, ৫৩.৯২, ৫১.১১ এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় ছিল ৬১.৬০, ৮৯.১০, ৭৮.২৯, ৭২.৬১ এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালুর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







