বর্জ্য অপসারণ এখন ডিএসসিসির প্রথম অগ্রাধিকার: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমানে বর্জ্য অপসারণই ডিএসসিসির প্রধান অগ্রাধিকার। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।
বুধবার ১৭ জুন রাজধানীর নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজটি করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। কিন্তু নগরবাসীর অসচেতন আচরণের কারণে অনেক সময় তাদের পরিশ্রমের সুফল নষ্ট হয়ে যায়। ভোরে রাস্তা পরিষ্কার করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকে নির্ধারিত স্থান ও সময়ে ময়লা ফেলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে ময়লা সংগ্রহ করা হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী বছর বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পায়, তাহলে প্রয়োজন হলে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মী দুর্ঘটনার শিকার হলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব সিটি করপোরেশন নেবে। সম্প্রতি দুর্ঘটনায় আহত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়লে পরিচ্ছন্নতা বিভাগে জনবলও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এবারের ঈদুল আজহায় দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, স্বল্প সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে, যা নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। আগে কয়েক দিন পর্যন্ত কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধ টের পাওয়া গেলেও এবার সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি। জানান, তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে হেলথ কার্ড দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা ছয় হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তারও ঘোষণা দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।’
ভিওডি বাংলা/খতিব/আ







