প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে নেতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশে বিভিন্ন ধরনের উসকানি ও নেতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি শিল্প ২০৩০: প্রতিবন্ধকতা, সুযোগ ও কৌশলগত সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এখন একটি অবিভাজ্য প্রয়োজনীয় খাতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে মানুষের জীবন, চেতনা ও মূল্যবোধে পরিবর্তন এসেছে এবং আসছে। তিনি বলেন, শিল্পবিপ্লবের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব এখন নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যুগে প্রবেশ করেছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হবে।
তবে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রিজভী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপর রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যাতে দেশের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সরকারপ্রধান কয়েকটি দেশ সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের উসকানি এবং নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টা চলছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে।
রিজভী বলেন, দেশের স্বার্থ ও কল্যাণে বিশ্বের কোনো দেশ বাংলাদেশের শত্রু নয়, আবার কোনো দেশ প্রভুও নয়। সবাই বন্ধু—এ নীতিই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতি ছিল। তিনি বলেন, সেই নীতির ভিত্তিতেই বর্তমান সরকারপ্রধান বৈদেশিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ এবং ‘ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ নীতির কথা বলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এটি কোনো বিদেশি মডেলের অনুসরণ নয়; বরং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর আওতায় আনার একটি ঘোষিত নীতি।
ভিওডি বাংলা/এএইচ/এমএস







