• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, গণপিটুনিতে মারা গেল অভিযুক্ত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদার (২৮) গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর পাড় এলাকার একটি বাসায় ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে অন্তর মজুমদারকে আটক করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, “গণপিটুনি দেওয়ায় অন্তরের মাথায় গভীর আঘাত ছিল।” তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, “তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। কিন্তু পথে তাকে মৃত অবস্থায় ফেরত আনা হয়।”

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহত চারজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত যুবক একই ভবনের একজন ভাড়াটিয়া ছিলেন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি ওই বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অন্তর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় রানী নামে এক নারী তাকে দেখে সন্দেহ করেন এবং সেখানে কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পানির লাইন ঠিক করতে এসেছি।” এতে সন্দেহ আরও বাড়লে ওই নারী ভবনের গেট আটকে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা বাসায় ঢুকে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দেন।

পুলিশ সুপার জানান, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
ডাসার উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
আদালতের রায়েও থামছে না প্রবাসী পরিবারকে হয়রানি
ছবি: সংগৃহীত
তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক