• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আগামী নির্বাচনেই কি শেষ হচ্ছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৮ জুন ২০২৬, ১২:১৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনই নির্ধারণ করতে পারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। যুদ্ধ, দুর্নীতির অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন তিনি।

শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করানোর অভিযোগ রয়েছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।

এদিকে উত্তরের সীমান্তে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান উত্তেজনাও তার সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে ইসরায়েলের একটি অংশ এখনো হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরের ঘটনাপ্রবাহে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন না করায় দেশটির জনগণের একাংশ নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখায় আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি ২০১৯ সালে দায়ের হওয়া একাধিক দুর্নীতির মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গ মনে করেন, নেতানিয়াহু এখন বাস্তব রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতাকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি ইসরায়েলের বড় একটি অংশ। একই সঙ্গে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নাকি সেনা প্রত্যাহার এ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে সচেতন ইসরায়েলিরা। তবে লেবানন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের অবস্থানে এখন দৃশ্যমান পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ধরে রাখতে আগ্রহী হলেও নেতানিয়াহু এখনো লেবানন থেকে সেনা সরানোর প্রতিশ্রুতি দেননি।

সাবেক সেনাপ্রধান এবং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরিষ্কার কৌশল তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান সরকার।

অন্যদিকে সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভির মতে, সময়ক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে দুর্বল করার চেষ্টাও করতে পারেন। তবে নির্বাচনের আগে আবারও ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি নেতানিয়াহু দিয়েছিলেন, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতাই নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
আবারও কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পর মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা
ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৯২০