স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘সিটা’ প্রকল্প উদ্বোধন, ব্যয় ৩২৮৭ কোটি টাকা

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় সরকারের পাঁচটি সংস্থার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছে পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডির অধীন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (ওসিএজি)।
২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) অর্থায়ন করবে ৩ হাজার ৪৩ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ২৪৪ কোটি টাকা।
প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সিটা প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচটি সংস্থার সেবা কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয়তা আনা হবে এবং তথ্যভিত্তিক সমন্বয় জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এনবিআরের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা, হিসাব ও নিরীক্ষা কার্যক্রম, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি পরিমাপ, প্রকল্প তদারকি এবং ই-জিপি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দেশের আর্থিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজেট-জিডিপি অনুপাত মাত্র ১৩ শতাংশ, যা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, "স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় যদি ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ দিতে হয়, তাহলে অবশিষ্ট ৩ শতাংশ দিয়ে অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হবে?"
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত দুর্বলতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কাজ করছে। এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সিটা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান একার্ডট বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৬ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলে সরকারি সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পটি পরিকল্পনা বিভাগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে বিভাগটি কৌশলগত নেতৃত্ব দেবে।
বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বিপিপিএ। তিনি বলেন, "২০৩০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় আমরা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও ক্লাউড-প্রস্তুত ই-জিপি ভার্সন ২.০ প্ল্যাটফর্ম চালু করতে চাই।"
এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে ৭ শতাংশের কম কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও সরকারি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকার বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি সরকারের ৩আর কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সিটা প্রকল্পের আওতায় ওসিএজিতে স্বয়ংক্রিয় হিসাব ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা সেবাদানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য