• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জুলাই শহীদের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি    ২৯ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল মতিন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) ঢাকার মতিঝিলে আলফা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের ২৯ মে শহীদ পরিবারের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ থেকে সাত লাখ টাকা দেনমোহর এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন।

এ ঘটনার পর পারিবারিক বিরোধ আরও তীব্র হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর গত ২ জুন মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিনকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে নিবৃত্ত করেন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শহীদ শাহরিয়ারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন আব্দুল মতিন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার শহীদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকার ওপর ভর করে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।’ এছাড়া শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ অর্থ উত্তোলনে তার স্বাক্ষর জাল করার চেষ্টারও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, বংশ রক্ষার স্বার্থে এবং মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, নিজের উপার্জনের অর্থেই বিয়ে করেছেন এবং ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহারের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

আব্দুল মতিন আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের পর কয়েকবার প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি সফল হননি। বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জুলাই সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাকিব বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হতো। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, একজন জুলাই শহীদের বাবার এমন সিদ্ধান্ত তাদের ব্যথিত করেছে এবং এটি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একই সংগঠনের সমন্বয়কারী (শহীদ ও আহত সেল) আল নূর আয়াস বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শহীদ পরিবারের মর্যাদা ও মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
সুদের টাকা না দেওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত
ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত
সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, গ্রেপ্তার ২