ফেনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মারধরের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ফেনীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামে মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন যুবককে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আহত ব্যক্তিরা দাবি করেন, তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
আহতদের একজন স্বপন অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে মারধর করা হয়েছে গরু ছাগলকে ও মারে না এমন ভাবে এবং আমার দোকান থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তারপরও তাকে জড়িয়ে বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে।”
তার মা দাবি করেন, আমার ছেলেকে এভাবে পিটিয়েছে আমার স্বামী নাই তবুও এভাবে মারছে আমার ছেলেকে আমি ভালো পথে আনতে বুঝাই।
অন্য দিকে স্বপনের দাবি অতর্কিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে। যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও মাদক এর ভয়াল থাবায় একজন মারা যায়। মাধকের প্রভাবে কিশোর ও তরুণ সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যেই তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “যারা মাদক বিক্রি করে তারা আমাদের এলাকারই সন্তান। তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা পুলিশে না দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য সমাজ থেকে মাদক দূর করা।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাথানিয়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের কারণে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং যুব সমাজ ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তবে সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন হলেও কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই সঠিক পদ্ধতি।
ঘটনার পর আহতদের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে এলাকাবাসী বলছেন, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যেই তারা ওই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভিওডি বাংলা/জহির আদনান/আ








মন্তব্য