• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

খামেনির শেষকৃত্যে বিশাল সমাবেশের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। ছয় দিনব্যাপী এ আয়োজনকে তেহরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এটি দেশ ও বিদেশে ইরানের শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

তেহরানের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলিরেজা জাকানি জানান, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার সম্মানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান রাজধানীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশে পরিণত হতে পারে।

প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে মধ্য তেহরানে তার বাসভবন ও কার্যালয় চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন। ওই হামলায় তার মেয়ে ও দুই নাতি-নাতনিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চের শুরুতে নির্ধারিত শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই নতুন করে শেষকৃত্যের সূচি ঘোষণা করে ইরান সরকার।

আয়োজন কমিটির প্রধান আলী-আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ উপলক্ষে শনিবার থেকে তেহরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে এবং রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে। এর আগের দিন তার মরদেহ ইরাকের শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী নজফ ও কারবালাসহ কয়েকটি স্থানে নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কর্মসূচিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

খামেনির দীর্ঘ শাসনামলে একদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ তৈরি হয়। এর জেরে ২০০৯ সালের সবুজ আন্দোলন, ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভ সংঘটিত হয়, যেগুলো কঠোরভাবে দমন করা হয়।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও শিল্পকারখানা ধ্বংস হওয়ায় হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তবে সরকারের সমর্থকদের মতে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রাষ্ট্রের টিকে থাকাই ইরানের দৃঢ়তার প্রতীক।

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বাবার জানাজায় থাকবেন না মোজতবা খামেনি
পানামা খাল ইস্যুতে চিনের ওপর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প
পানামা খাল ইস্যুতে চিনের ওপর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
উদ্ধার মহড়ায় সিনেমা স্টাইলে বিয়ের প্রস্তাব