• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

গবেষণা-উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত, ইউএপি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৪ পি.এম.
গবেষণা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারে ইউএপি ও ডিপিডিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: ভিওডি বাংলা
গবেষণা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারে ইউএপি ও ডিপিডিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: ভিওডি বাংলা

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ইউএপির উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সহায়তা, পেটেন্ট নিবন্ধন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইউএপিতে টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্র গবেষকদের নতুন উদ্ভাবনকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পেটেন্ট ডাটাবেজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।

ডিপিডিটির কর্মকর্তারা জানান, টিআইএসসি চালু হলে গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবনের সম্ভাব্যতা যাচাই, পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়া এবং শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধন বিষয়ে সহজে সহায়তা পাবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের বিষয়গুলো সহজতর করতে ইউএপিতে একটি সহায়তা কার্যালয় স্থাপনে আগ্রহী ডিপিডিটি।

তিনি বলেন, টিআইএসসি প্রতিষ্ঠা করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি গবেষকেরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেটেন্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

ডিপিডিটির মহাপরিচালক ইউএপির আধুনিক গবেষণাগার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে ইউএপির স্কুল অব ফার্মেসির ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবনকে পেটেন্টের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফলকে কার্যকরভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা ইউএপিকে নিজস্ব মেধাস্বত্ব নীতিমালা (আইপি পলিসি) প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শক্তিশালী মেধাস্বত্ব কাঠামো গড়ে তুলে গবেষণা ও উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর আইপি ব্যবস্থাপনা গবেষণার ফলাফলকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরে সহায়তা করে।

তার মতে, এ সমঝোতার মাধ্যমে সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বাড়বে।

ইউএপির স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলী বলেন, ডিপিডিটির সঙ্গে এই অংশীদারত্বের ফলে গবেষকরা পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করবেন। এতে তাঁদের উদ্ভাবন সঠিকভাবে সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া ডিপিডিটির সহায়তা কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং উপ-পরিচালক (পেটেন্ট) মো. হাবিবুর রহমানকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

একই সঙ্গে তিনি ইউএপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির (এমওএ) মাধ্যমে গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। ইউএপির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় গবেষণাগার ও গবেষণা সুবিধা বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউএপির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নজরুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআরআইডি) পরিচালক অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ, ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জেবুন নাহার, ডিপিডিটির উপ-পরিচালক (পেটেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ড. শিহাব উদ্দিন আহমদ এবং আইআরআইডির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

ভিওডি বাংলা/জা

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইমরান হায়দার। ছবি: ভিওডি বাংলা
উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ইউজিসি-এইচইসি
ছবি: সংগৃহীত
কলেজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছবি: সংগৃহীত
একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে মঙ্গলবার