• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল বিভ্রান্ত করছে: মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীসহ ভেঙে পড়ল মঞ্চ ভিসা নীতি কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র, পড়া শেষে ৩০ দিনে ছাড়তে হবে দেশ অল্প বয়সেই কঠিন চ্যালেঞ্জে দেশের মেধাবী তরুণরা: জাইমা রহমান জুলাইয়ের শহীদ পরিবারপ্রতি ১ কোটি টাকা সহায়তার দাবি এনসিপির চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ডিএনসিসির ৪৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা রবি-রাজিবের নেতৃত্বে নৌপরিবহন খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

বৃষ্টি-বন্যায় অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এ.এম.
ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর বাজারে ডিম, মুরগি ও সবজির দাম বেড়েছে। ছবি: ভিওডি বাংলা
ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর বাজারে ডিম, মুরগি ও সবজির দাম বেড়েছে। ছবি: ভিওডি বাংলা

টানা ভারী বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডিম, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়াকেই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর হাতিরপুল, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে ডজনপ্রতি ডিমের দামও বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার পানিতে বিভিন্ন জেলার সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি অনেক মুরগির খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তবে ক্রেতার চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় দাম বাড়ছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের।

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, বর্তমানে খামারিদের মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। বাজারে মূলত বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মুরগি আসছে, যার দাম তুলনামূলক বেশি।

বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও বৃষ্টির পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। খামারিদের মুরগি বাজারে খুব কম আসছে।

তবে দেশি মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। এটি এখনও ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

মুরগির দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিমের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে বর্তমানে একই ডজন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা।

বিক্রেতাদের দাবি, মুরগির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন। ফলে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে।

সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে বৃষ্টির প্রভাবে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে।

বর্তমানে বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, শসা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা এবং কচুর লতি ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

আদা-রসুনেও কমেনি চাপ

চলতি অর্থবছরের বাজেটে আদা, রসুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, দেশি রসুন প্রায় ১০০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজও বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে উঠেছে। তবে আলুর দাম এখনও ৩০ টাকার আশপাশে রয়েছে।

মসলা বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। লবঙ্গ, দারুচিনি, জিরা, এলাচ, গোলমরিচ ও কিশমিশ আগের উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও চালের বাজারে স্থিতিশীলতা

সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩0 টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চাষের মাছের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

 

চালের বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আমদানি করা ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক কমালেও বাজারে এখনও তার সুফল মেলেনি। বরং টানা বৃষ্টি, বন্যা ও সরবরাহ সংকটের কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
কোকা-কোলা বাংলাদেশের মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা
আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন
পোশাক রপ্তানি আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম