শিক্ষামন্ত্রীর সামনে মান্দার এমপিও সংকট তুলে ধরলেন ইকরামুল বারী

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির বাইরে থাকা যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তিনি বলেন, উপজেলার আয়তন, জনসংখ্যা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিবেচনায় মান্দা আরও বেশি সুযোগ পাওয়ার দাবিদার।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজশাহী থেকে সড়কপথে নওগাঁ যাওয়ার পথে মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উদ্দেশে তিনি এ দাবি তুলে ধরেন।
বক্তব্যে এমপি টিপু বলেন, মান্দা উপজেলা ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এবং এটি জেলার অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা। অথচ উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির সুযোগ বণ্টনের ক্ষেত্রে এ উপজেলার বাস্তবতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। পার্শ্ববর্তী আসনের তুলনায় মান্দার জন্য বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, যদি অন্য উপজেলাগুলোতে একাধিক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুযোগ থাকে, তাহলে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনায় মান্দার অন্তত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া যৌক্তিক। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, গত প্রায় দুই দশকে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে মান্দায় বহু মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে নীতিগত জটিলতা ও প্রশাসনিক কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে এমপিও নীতিমালার সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে শর্ত কিছুটা শিথিল করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে মান্দাবাসীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য