ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ আশ্রয়ে তিন লাখ মানুষ
ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করায় নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দেশ মিলিয়ে তিন লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন, জরুরি অবস্থা জারি এবং ইউরোপীয় সহযোগিতা চাওয়াসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত বোর্দো শহরের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।
দমকল বাহিনীর সদস্যরা দিন-রাত কাজ করলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতা তাদের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলেছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও দমকা হাওয়া আগুনকে আরও উসকে দিচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতেও ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৫৫ হাজার মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখে পৌঁছেছে।
দমকল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ এএফপিকে বলেন, আগুন এতটাই তীব্র যে এটি নিজেই বাতাস ও ঘূর্ণিবাতাস সৃষ্টি করছে। ফলে আগুনের গতিপথ অনির্দেশ্য হয়ে পড়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়েছে। সেনাসদস্যরা আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ফায়ারব্রেক তৈরি করে দমকল বাহিনীকে সহায়তা করছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেছেন, সরকার প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশজুড়ে প্রায় ৩০টি বড় দাবানল জ্বলতে থাকায় পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠকও আহ্বান করেছেন তিনি। সরকারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি।
এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশটিতে ৯৮ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
স্পেনেও দাবানলের ভয়াবহতা বাড়ছে। বিশেষ করে মাদ্রিদের আশপাশের এলাকা এবং ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী ওই ব্যক্তির মরদেহ মানিসেস এলাকার সাল্ট দে ল’আইগুয়া গিরিখাতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যদিও মাদ্রিদের আশপাশে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় দমকলকর্মীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল শুরুর পর থেকে মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ২৮ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য