দেশের সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে বর্তমানে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে ফ্লোটিং মজুদসহ মোট ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ টন খাদ্যশস্য সংরক্ষিত রয়েছে। এই পরিমাণ মজুদ নিরাপদ খাদ্য মজুদের নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় ১০ লাখ ২৪ হাজার টন বেশি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, বর্তমান মজুদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বাজার অস্থিতিশীলতার মতো যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে আরও সক্ষম করবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারি গুদামগুলোতে ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ টন চাল, ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ টন গম এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ টন ধান সংরক্ষিত রয়েছে। ধান থেকে চালে রূপান্তরের হিসাব এবং ৮ হাজার ৭৩৫ টন ফ্লোটিং চাল যুক্ত করলে মোট খাদ্যশস্যের মজুদ দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ টন।
বর্তমানে দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুদের ন্যূনতম সীমা ধরা হয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে খাদ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
শুধু খাদ্যশস্য সংগ্রহ নয়, সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে সরকারি খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ সক্ষমতা ২৪ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২৭ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মৌসুমি সংগ্রহ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় নিরাপদভাবে খাদ্য সংরক্ষণের সুযোগও বাড়বে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকার মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ টন ধান ও চাল সংগ্রহ করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৮ টন ধান, ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪২০ টন সেদ্ধ চাল এবং ৭৬ হাজার ৮১৪ টন আতপ চাল। একই সময়ে ৫২৩ টন গমও সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক ও চালকল মালিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে চলছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে চাল ও গম মিলিয়ে ১১ হাজার ৬৫০ টন এবং বেসরকারি খাতে ৩ লাখ ৯ হাজার ১৫০ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এই সময়ে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কোনো খাদ্যশস্য আমদানির প্রয়োজন হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষক ও চালকল মালিকদের সহযোগিতা এবং মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে।"
তিনি বলেন, "সরকারি গুদামগুলোতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুদ রয়েছে। এ মজুদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) গবেষণা পরিচালক ফিরোজ আল মাহমুদ বলেন, "জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা আরো বাড়ানো হচ্ছে।"
এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, "সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতের পাশাপাশি সেগুলোর সঠিক সংরক্ষণ ও গুণগতমান বজায় রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান ও চাল সংগ্রহ এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য