এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে এক ব্যক্তিকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী তরুণীর মামা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, মামলায় গ্রেপ্তার আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকায় তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে এমপির ওই বাসায় যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে এমপির সঙ্গে বাদীর ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানার পর ওবায়দুর রহমান পরিবারকে অবহিত করেন এবং ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র এমপি নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এতে নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুর রহমানই গোপন ভিডিও ধারণ করে গণমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে সেগুলো তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই এমপি নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়।
ওবায়দুর রহমান জানান, ওইদিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই সময় ওবায়দুর রহমানের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টার পাশাপাশি চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওবায়দুর রহমান কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে, সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন। এই অবস্থায় আদালত মামলাটির তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/আর









মন্তব্য