ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ, ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ গেল মামা-ভাগ্নির
রাজধানীর ভাটারায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ মামা ও ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় দগ্ধ শাহিনের স্ত্রী এখনও হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহিন (২৪)। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যায় তার আট বছর বয়সী ভাগ্নি হাফসা আক্তার। বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার অবস্থাও সংকটাপন্ন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শাহিনের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং হাফসার ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে ফাহিমার শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নতুন বাজারের ১০০ ফিট সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বাসার ভেতরে তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শাহিন একটি কাপড়ের শোরুমে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
প্রতিবেশীদের ধারণা, বাসাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ থাকায় রাতে পাইপলাইন থেকে গ্যাস বের হয়ে কক্ষে জমে যায়। পরে ভোরে রান্নার সময় কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এদিকে দগ্ধ ফাহিমা আক্তারের চাচি শামীমা সুলতানা অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে পরিবারটি ওই বাসায় ওঠে। তখন থেকেই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানানো হলে একবার পাইপ মেরামত করা হলেও পরে আবার লিকেজ দেখা দেয়। একাধিকবার অভিযোগ করার পরও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা হয়নি।
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য