মেধার সঙ্গে দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটাতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, মেধা আল্লাহর দান। মেধার বিকল্প নেই। মানুষের কাজ হলো সেই মেধাকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করা। মেধাকে সঠিক কাজে ও সঠিক জায়গায় ব্যবহার করতে পারলে সমাজ উপকৃত হবে, আর তা না হলে পুরো জাতি বঞ্চিত হবে।
তিনি বলেন, মেধাবী হতে হবে, পাশাপাশি দেশপ্রেমিকও হতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয় করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত জুনিয়র ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অতীতে দেশের রাজনীতিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম দিকের রাজনীতিতেও মেধাবী ছাত্ররাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডাকসু, চাকসু কিংবা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভালো ছাত্রদেরই নেতৃত্বে আনা হতো।
তিনি বলেন, দেশকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে ফেলার কারণে মেধাবীরাও বিভক্ত হয়ে গেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক সময় মেধাবীরা নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ হারাচ্ছে, এতে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমান প্রজন্মের প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে অনেকেই পুলিশ, কাস্টমস বা সরকারি চাকরির কথা বলে। কিন্তু নিজেকে বিকশিত করে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার চিন্তা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে মেধাবীরা যেন কোনোভাবে দেশ থেকে হারিয়ে না যায়। অনেক মেধাবী সুযোগ পেলেই আমেরিকা, ইউরোপে যেতে চায়। কিন্তু নিজের দেশকে ভালো করার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে।
দেশপ্রেমের গুরুত্ব তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এই দেশ আমার। ভালো-খারাপ যাই হোক, এটি আমার জন্মভূমি। এই দেশকে ভালো করার দায়িত্ব আমার।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূষণের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর একটি। কেন বাংলাদেশ খারাপ অবস্থানের তালিকায় থাকবে, বরং ভালো অবস্থানে যেতে কী করা যায় সেটি ভাবতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মেধার পাশাপাশি মেধাবীদের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে। মোবাইল ফোন প্রয়োজনীয় হলেও এর অপব্যবহারে অনেক তরুণ ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধেও মেধাবী তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।
নিজের অতীত স্মরণ করে আবদুস সালাম বলেন, আমরাও একসময় ছোট ছিলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও দেশ নিয়ে ভাবতাম। দেশকে ভালোবাসতাম বলেই এখনো রাজনীতির সঙ্গে আছি। নটর ডেম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম।
তিনি বলেন, রাজনীতির সমালোচনা করা যায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মাধ্যম রাজনীতি। তাই বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক কিংবা যে কোনো পেশার মানুষকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসা, প্রকৌশল ও শিক্ষার মতো অনেক ক্ষেত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জায়গায় পরিবর্তন আনতে মেধাবীদেরই ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আল্লাহ পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় যেমন সমুদ্র, পাহাড়, নদী, মাছ ও ক্ষেত সৃষ্টি করেছেন, তেমনি মানুষের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিভা দিয়েছেন। কেউ ডাক্তার হবে, কেউ প্রকৌশলী, কেউ খেলোয়াড়, কেউ পরিচ্ছন্নতাকর্মী—প্রত্যেকের কাজই গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজে অপরাধ, পরিবার ভাঙন ও অবক্ষয়ের বিষয় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিরোধে মেধাবী ও সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, আগে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হতো। এখন সেই চর্চা অনেকটাই কমে গেছে। সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের নজরদারিও আগের মতো নেই।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ট্যালেন্টদের অবদান সবচেয়ে বেশি। ভালো কাজের কৃতিত্ব যেমন তাদের দিতে হবে, তেমনি ভুল কাজ হলে সমালোচনাও তাদের প্রাপ্য।
স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, বাংলাদেশ আমরা অনেক কষ্ট করে, যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছি। কিন্তু এখনো স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এর জন্য আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে দায়ী।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীরা যেন ‘আই হেট পলিটিক্স’ না বলে, বরং ভালো, মেধাবী, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ যেন রাজনীতিতে আসে—সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে প্রশাসক বলেন, কোনো পেশাকে ছোট না করে প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ








মন্তব্য