জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি
জাতীয় ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল

জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। জুলাই নিয়ে কোনো ধরনের বিচারহীনতা চলবে না বলেও মিছিল থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রশক্তির নেতারা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন প্রাঙ্গণ থেকে কফিন মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি মধুর ক্যানটিন, মল চত্বর ও ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আদর্শিক ভেদাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে আমরা এক। আজকের সমাবেশে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের (আওয়ামীপন্থী) সকল শিক্ষককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আমরা আজকের সমাবেশ থেকে দাবি জানাচ্ছি, যারা এই জুলাই গণহত্যার পক্ষে ছিল, কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের যে সকল সন্ত্রাসী হামলা করেছিল, তাদের সবার সনদ এবং ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জুলাইকে শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; জুলাইকে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আর জুলাইকে ধারণ করার অর্থ হলো, গত দেড় দশকের বেশি সময় চালানো নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন, গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতা হরণের ইতিহাসকে স্মরণ রাখা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘যে ফ্যাসিস্ট শক্তি জনগণের অধিকার হরণ করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অটুট। এই সমাবেশ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাই, জুলাইয়ের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দ্রুত কার্যকর করা হোক এবং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হোক।’
সমাবেশে ঢাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, জুলাই নিয়ে কোনো বিচারহীনতা চলবে না। আপনারা ইতিমধ্যে গণভোট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন, দ্বিতীয়বার আর কোনো প্রতারণার সুযোগ আপনাদের দেওয়া হবে না।’
অবিলম্বে গণভোটের রায় ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান ছাত্রশক্তির এ নেতা।
ভিওডি বাংলা/আর/এফএ








মন্তব্য