• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বাজেট পাসের পথে সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মঞ্জুরি দাবির ওপর দ্বিতীয় দিনের মত ভোট গ্রহণ চলছে জাতীয় সংসদে।

সোমবার সাত নম্বর মঞ্জুরি দাবি পর্যন্ত নিষ্পত্তির পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সম্পর্কিত আট নম্বর দাবি থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। পরে বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচনা হতে পারে; তবে তা ভোটের আওতায় পড়ে না।

আসন্ন বাজেটে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে ৪৩ জন সংসদ সদস্য ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিস দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার মঞ্জুরি দাবির ভোট শুরুর সময় আলোচনার সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি আসে। পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাব বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ‘অধিকার’। সময় বিবেচনায় তারা প্রস্তাবের তালিকা কমিয়ে দিয়েছেন।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, বিরোধী দলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে।

সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন, ছাঁটাই প্রস্তাব, মন্ত্রীর জবাব এবং কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে বাজেট পাসের প্রক্রিয়া এগোয়।

রাজস্ব প্রশাসন সংস্কারের দাবি: অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জন্য ৪ হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মঞ্জুরির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এই দাবির ওপর ১২ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। তাদের মধ্যে পাবনা-৩ আসনের জামায়াতের মুহাম্মদ আলী আছগর এবং পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের মাসুদ সাঈদী বক্তব্য দেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজস্ব প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

করদাতাদের হয়রানি ও এনবিআর সংস্কারের দাবি তুলে তিনি বলেন, করের আওতা বাড়ানোর নামে সাধারণ নাগরিকদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। সৎ করদাতারাও অডিটের নামে হয়রানির শিকার হন।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার, মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান ও হুন্ডির প্রসঙ্গ তুলে তিনি শুল্ক গোয়েন্দা ও কর ফাঁকি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার দাবি জানান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রাজস্ব আদায়ের ৮৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে আসে। এই বিভাগের বাজেট কমানো হলে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

পরে ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ হয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মঞ্জুরি দাবি কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা বন্ধে আশ্বাস: আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং রংপুর-৪ আসনের এনসিপির আখতার হোসেন।

সৈয়দ জয়নুল আবেদীন সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ইসলামী অর্থব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি মালয়েশিয়ার মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দ্বৈত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন।

জাকাত, ওয়াকফ ও সুকুকের মত উপকরণ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কথাও বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, মাইক্রোক্রেডিট ও পুঁজিবাজারের বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। তবে বিভাগটির দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ঘাটতি অতীতের বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সময় স্পষ্ট হয়েছে।

হলমার্ক, জনতা ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ঋণ পুনঃতফসিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাজের দ্বৈততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই এমপি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আর্থিক খাতে যে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, এটা বন্ধ করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের খাতের মধ্যে ব্যাংক, বীমা, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রম, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন, সোশাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান রয়েছে।

পরে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করা হয় এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মঞ্জুরি দাবি কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

সংসদীয় প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মঞ্জুরি দাবি প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী উত্থাপন করেন। এরপর সেই দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব থাকলে নোটিসদাতা সংসদ সদস্যরা তা উত্থাপন করে বক্তব্য দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জবাব দিলে প্রথমে ছাঁটাই প্রস্তাব, পরে মূল মঞ্জুরি দাবি ভোটে দেওয়া হয়।

ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার
ফাইল ছবি
খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ফাইল ছবি
ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ সংসদে