{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙছে বসতভিটা-ফসলি জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এ.এম.
যমুনার তীব্র ভাঙনে বগুড়ার ধুনট উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ছবি: ভিওডি বাংলা
যমুনার তীব্র ভাঙনে বগুড়ার ধুনট উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ছবি: ভিওডি বাংলা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ইতোমধ্যে বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা ও কৃষিজমি নদীতে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন অংশ ভেঙে নদীতে চলে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টায় যমুনা নদীর পানি ১৫ দশমিক ৫৭ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয় বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৯ সেন্টিমিটার। যদিও পানি এখনো বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে, তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় আরও পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার প্রবল স্রোত ও বড় বড় ঢেউ নদীতীরে আঘাত হানছে। এতে মুহূর্তেই ধসে পড়ছে মাটির স্তর। নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের জমি। পাশাপাশি উপড়ে পড়ছে গাছপালা। শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মাঝামাঝি প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।

নদীভাঙনের শিকার কৃষক জুয়েল শেখ জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে তার কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীতে চলে গেছে। শত বছরের পুরোনো পৈতৃক বাড়িটিও আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “নিজের চোখের সামনে সবকিছু নদীতে চলে যেতে দেখেছি। জমি নেই, বাড়ি নেই। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে পুরো গ্রামই একদিন নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনার ভাঙন নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনে। প্রতিবছরই অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারায়। কিন্তু স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিকে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ভাঙন এগিয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে পানির চাপ বেড়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
নেত্রকোনায় নিরাপদ অভিবাসনে সচেতনতা বাড়াতে সেমিনার
ছবি: সংগৃহীত
গৌরীপুরে গ্রামীণ সড়ক পরিকল্পনায় তথ্য যাচাইকরণ কর্মশালা
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অতিথির বক্তব্য দেন আফরোজা খানম। ছবি: ভিওডি বাংলা
মানিকগঞ্জে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন পর্যটন মন্ত্রী