• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ডিজেল সংকটে কক্সবাজারে বোরো চাষ হুমকিতে, বন্ধ সেচপাম্প

কক্সবাজার প্রতিনিধি    ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কক্সবাজার জেলায় চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ না থাকায় জেলার হাজার হাজার সেচপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মাঠে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে অন্তত ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধানখেত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধানগাছের এই গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির সময় নিয়মিত পানি না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই গাছ পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী এলাকার কৃষক রমিজ উদ্দিন তিন একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। তিনি জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোপণ করা ধানগাছে এখন নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এজন্য তিনি ৪ অশ্বশক্তির একটি ডিজেলচালিত শ্যালো পাম্প ব্যবহার করছেন। তবে গত এক মাস ধরে পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় পাম্পটি একটানা এক ঘণ্টাও চালাতে পারছেন না। তার আশঙ্কা, এই অবস্থা আরও দুই সপ্তাহ চললে অধিকাংশ ধানগাছ মারা যাবে।

একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া, হোয়ানক, মিজ্জিরপাড়া এবং সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরিপাড়া, বাংলাবাজার ও খরুলিয়াসহ নানা অঞ্চলে সেচ সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড তাপদাহে জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় পানির অভাবে কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, কক্সবাজারের ৯টি উপজেলায় মোট ৭ হাজার ১৪৬টি সেচপাম্প রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেলচালিত। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০টির বেশি পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে সেচ কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।

চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন চাল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহেশখালীর কালারমারছড়ার কৃষক আমির হামজা বলেন, গত বছর খালের পানি ব্যবহার করে তিনি চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর খাল শুকিয়ে যাওয়ায় অন্যের পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবুও গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়মিত পানি পাচ্ছেন না। এতে ধানগাছের রং পরিবর্তন হয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে, যা ফলনের জন্য অশনি সংকেত।

একই উপজেলার হোয়ানক কেরুনতলী এলাকার কৃষক জাহেদুল ইসলাম জানান, সাত কানি জমিতে বোরো চাষ করতে তার প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এখন সেচের অভাবে ধান নষ্ট হলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মতে, বোরো ধান উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই সেচনির্ভর। নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে ধানের চারা মাঝপথেই শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে পুরো মৌসুমের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।

সদরের ঝিলংজা এলাকার কৃষক মনির আহমেদ বলেন, স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘুরেও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা দরে ডিজেল কিনতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ধরনের সেচযন্ত্র চালাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়। একটি গভীর নলকূপ চালাতে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৫ লিটার ডিজেল লাগে। লো-লিফট পাম্পে প্রায় ৪ লিটার এবং শ্যালো পাম্পে ২ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সেচ কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। এতে শুধু কৃষকের ক্ষতিই নয়, সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কক্সবাজার অঞ্চলের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে।

চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ না থাকায় অর্ধেকের বেশি সেচপাম্প চালু রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ভিওডি বাংলা/জা


 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সন্তানসহ মুক্তি পেলেন সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী
সন্তানসহ মুক্তি পেলেন সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী
অভিনব চোর চক্রের উপদ্রবে, অন্ধকারে অর্ধশতাধিক পরিবার
অভিনব চোর চক্রের উপদ্রবে, অন্ধকারে অর্ধশতাধিক পরিবার
নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা
নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা