ফ্লোরিডায় বৃষ্টির খোঁজে দেহাবশেষ উদ্ধার, পরিচয় অজানা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে গিয়ে একটি জলাশয় থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এখনো দেহাবশেষটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় সময় রোববার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশটি পিনেলাস কাউন্টির টাম্পা বে এলাকার একটি জলাশয় থেকে পাওয়া যায়, যেখানে বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ইন্টারস্টেট-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন এলাকা থেকে দেহাবশেষটি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানটি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের সেন্ট পিটার্সবার্গ অংশের কাছাকাছি।
তদন্তকারীরা ২৭ বছর বয়সী নাহিদা বৃষ্টিকে মৃত বলে ধারণা করছেন। তিনি গত সপ্তাহে একই বয়সী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন। এর আগে শুক্রবার টাম্পার একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পূর্বপরিকল্পিত দুইটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই আটক আছেন।
রোববার প্রকাশিত আদালতের নথিতে জানা যায়, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’-তে মরদেহ গুম করার উপায় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল তিনি জানতে চান—কাউকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ফেলে দিলে কী ঘটতে পারে এবং সেটি কীভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। পরবর্তী দিনগুলোতে গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন এবং লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র রাখার বিষয়েও তিনি তথ্য খোঁজেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের অবস্থান হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় ছিল—যেখান থেকে পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পিঠের নিচে গভীর ক্ষত লিভার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ময়নাতদন্তে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, গোয়েন্দারা লিমন ও অভিযুক্তের শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে ব্যাপক রক্তের দাগ শনাক্ত করেছেন। রান্নাঘর, করিডোর ও শোবার ঘরজুড়ে এসব দাগ পাওয়া গেছে, যার কিছু অংশ মানুষের আকৃতির মতো বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল টাম্পা এলাকায় দেখা যায়। পরদিন থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহ গুম এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।
ভিওডি বাংলা/আ







