• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
নকল ঠেকাতে এইচএসসি কেন্দ্রের সব কক্ষে ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ সভা ডেকেছে জাতীয় কমিটি, দুশ্চিন্তা কাটছে ১৪ হাজার শিক্ষকের তুরাগে ৭ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ বিএনপি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কাজ করে: আবদুস সালাম রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মাদক থেকে বাঁচতে ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ত হতে হবে: সেনাপ্রধান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মালয়েশিয়া-চীন সফর দেশের মানুষের স্বার্থে: প্রধানমন্ত্রী গাজী আতাউর রহমান ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাঘায় কৃষিপণ্যের দামে ধস, চরম সংকটে কৃষক

রাজশাহী ব্যুরো    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৩ পি.এম.
বাঘায় বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি-লোকসানে দিশেহারা কৃষক: ছবি-ভিওডি বাংলা
বাঘায় বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি-লোকসানে দিশেহারা কৃষক: ছবি-ভিওডি বাংলা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষিপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। গত মৌসুমে যে সব ফসল ও সবজি উচ্চ দামে বিক্রি হয়েছিল, এবার তার অধিকাংশই অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাজার ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম। কিছু বিক্রেতা পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে মাইকিং করে এসব পণ্য কম দামে বিক্রি করছেন। একই অবস্থা অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও-লাউ, পুঁইশাক, চালকুমড়া, কচু ও বিভিন্ন শাকসবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। তাদের মতে, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং ক্রেতা সংকট এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

বাঘার বিভিন্ন হাট-বাজারে দেখা গেছে, মৌসুমি সবজির দাম ব্যাপকভাবে কমেছে। পাইকারি ও খুচরা-উভয় পর্যায়েই একই চিত্র। ফলে কৃষকরা লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারছেন না। এতে করে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

শুধু সবজিই নয়, অন্যান্য ফসলের বাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। গমের দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। যদিও মসুর, খেসারি, ছোলা, সরিষা ও আদার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, তবে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না কৃষকরা।

একদিকে ফসলের দাম কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে কৃষি উপকরণের মূল্য। সার ও কীটনাশকের দাম প্রতি মণে গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের লোকসান আরও বাড়ছে।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, বাজারদর ও উৎপাদন খরচের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমাতে সরকারি সহায়তা বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ এবং কৃষি উপকরণে ভর্তুকি না বাড়ালে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ মূলত বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক, খুব শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

তিনি আরও জানান, সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক ফল আসতে পারে।

 ভিওডি বাংলা/ রমজান আলী/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি
ফরিদপুরে ২৬ লাখ টাকার মাদকসহ কারবারি গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার জব্দ
সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
শ্রমিকের মৃত্যু গাজীপুরে সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ
সুজন ও আরিফুল। ছবি: ভিওডি বাংলা
পাবনায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ২