মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ল মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড

মধ্যপ্রাচ্যে টানা দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড অবশেষে ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছে।
শুক্রবার (১ মে) এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্মকর্তা জানান, জেরাল্ড ফোর্ড বর্তমানে ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের অধীনস্থ এলাকায় অবস্থান করছে। তবে এই রণতরী সরিয়ে নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখনও উল্লেখযোগ্য। সেখানে বর্তমানে প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
এর মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ এখনও ওই অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। ফলে জেরাল্ড ফোর্ড চলে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-ক্ষমতায় বড় ধরনের কোনো শূন্যতা তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছিল জেরাল্ড ফোর্ড। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের আগে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছিল। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটিতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যাও দেখা দেয়।
গত ১২ মার্চ জাহাজটিতে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে খবর পাওয়া যায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি কোনো হামলা নয়, বরং জাহাজের লন্ড্রি রুমে আগুন লাগার ঘটনা। এতে দুইজন নাবিক আহত হন। পরে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য রণতরীটিকে গ্রিসে নেওয়া হয়।
এছাড়া দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে জাহাজটির অভ্যন্তরীণ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যাও সামনে আসে। বিশেষ করে টয়লেট ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় নাবিকদের ভোগান্তির খবরও প্রকাশিত হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। যদিও বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান এই প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট সময়ের বেশি চালানো যায় না।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যেকোনো সামরিক অভিযানের সময়সীমা ৬০ দিন। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে যেতে হলে আইনপ্রণেতাদের সম্মতি প্রয়োজন হয়।
এখনও পর্যন্ত সেই অনুমোদন না পাওয়ায় নতুন করে পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের দ্বারস্থ হয়েছে হোয়াইট হাউস। ফলে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







