• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ফলতায় পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ মে ২০২৬, ১১:২০ এ.এম.
ফলতায় নতুন করে ভোটের সিদ্ধান্ত কমিশনের । ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমবারের মতো কোনো একটি সম্পূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা আসনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২১ মে নতুন করে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ২৪ মে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রের পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেখানে ভোটগ্রহণের সময় একাধিক গুরুতর অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং গণতান্ত্রিক নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি ও অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে। একাধিক রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিজেপি প্রার্থী, ভোটের দিন থেকেই ইভিএম কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলতে থাকেন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন কেন্দ্র, যেমন ফলতা, মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় বিস্তারিত স্ক্রুটিনি চালানো হয়। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠান।

সেই রিপোর্টে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উঠে আসে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের সুপারিশ করা হয়। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা, কন্ট্রোল রুমে তথ্য না পৌঁছানো এবং ইভিএমে টেপ লাগিয়ে প্রতীক ঢেকে দেওয়ার ঘটনা।

আরও জানা গেছে, কিছু বুথে দুপুর পর্যন্ত ইভিএমের প্রতীক আংশিকভাবে ঢেকে থাকলেও পরে তা সরানো হয়। ততক্ষণে সেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফলতার সব ভোটকেন্দ্রে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পরিচালিত হবে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী শিবির এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা হিসেবে দেখলেও, শাসক পক্ষের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্নও উঠছে।

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের এই পুনর্নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রজেক্ট ফ্রিডমে অংশ নেবে ১৫ হাজার সেনা
হরমুজে মার্কিন অভিযান প্রজেক্ট ফ্রিডমে অংশ নেবে ১৫ হাজার সেনা
অভিষেকেই চমক থালাপতির
অভিষেকেই চমক থালাপতির
মমতার জরুরি ভিডিও বার্তা, যা বললেন
মমতার জরুরি ভিডিও বার্তা, যা বললেন