‘গোপন বিশ্বাসঘাতকতার’ ইঙ্গিত, রহস্যময় বার্তা তেহরানের

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই এবার রহস্যময় বার্তা দিল তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া ওই পোস্টে বাঘায়ি একটি পুরোনো আরবি প্রবাদ উদ্ধৃত করে লেখেন, “যে গোপনে বিশ্বাসঘাতকতা করে, সে প্রকাশ্যেই উন্মোচিত হবে।”
বার্তায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি এসেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের পরপরই। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপন সফর করেছিলেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় আরাগচি বলেন, “ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা এক ধরনের বোকামি। আর এ কাজে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ ক্ষমার অযোগ্য। যারা বিভেদ তৈরিতে ইসরায়েলের সহযোগী হবে, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।”
যদিও আরাগচিও কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবুও বিশ্লেষকদের অনেকে তার বক্তব্যকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর কথিত গোপন সফরের দাবি নাকচ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক বিবৃতিতে দেশটি জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য ও সুপরিচিত, যা আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সম্পর্ক কোনো গোপন সমঝোতা বা আড়াল করা ব্যবস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি বলেও উল্লেখ করা হয়।
আমিরাত আরও বলেছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া গোপন সফর বা সমঝোতা নিয়ে যেকোনো দাবি ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকেই ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে থাকে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করলে ইউএইসহ কয়েকটি আরব দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। পরে ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
ভিওডি বাংলা/এমএস







