• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রকেট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে স্পেসএক্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৩০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্পেসএক্স। আগামী সপ্তাহে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ও শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠান।

সবকিছু পরিকল্পনামাফিক থাকলে ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত স্টারবেজ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে উন্নত সংস্করণের স্টারশিপ রকেটটি মহাকাশে পাঠানো হবে। এটি হবে রকেটটির একটি অত্যাধুনিক আপগ্রেড ভার্সন।

এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনের ওপর কড়া নজর রাখছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানোর যে লক্ষ্য নাসা নিয়েছে, তা অনেকাংশেই স্টারশিপ রকেটের সফলতার ওপর নির্ভরশীল। 

স্টারশিপ রকেট মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—উপরের অংশ স্টারশিপ এবং নিচের অংশ সুপার হেভি। এবারের অভিযানে উভয় অংশেরই সম্পূর্ণ নতুন ভার্সন ৩ ব্যবহার করা হচ্ছে।

রকেটটির মোট উচ্চতা হবে ১২৪ মিটার, যা স্পেসএক্সের আগের সংস্করণের তুলনায় প্রায় ১ মিটার বেশি। এটি নাসার বর্তমান স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটের চেয়েও বড়। এমনকি ১৯৬০ ও ৭০–এর দশকে চাঁদে নভোচারী পাঠানো ঐতিহাসিক স্যাটার্ন ৫ রকেটের (১১১ মিটার) উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

শক্তির দিক থেকেও স্টারশিপ অত্যন্ত শক্তিশালী। উৎক্ষেপণের সময় এটি ৭৫ হাজার কিলোনিউটন থ্রাস্ট উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে, যা নাসার এসএলএস রকেটের প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যালিস্টারের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণ শক্তিতে চালু হলে এর সব ইঞ্জিনের উৎপাদিত শক্তি জার্মানির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়েও বেশি হতে পারে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে স্টারশিপের একাদশ পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। এরপর রকেটটির নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে স্পেসএক্স। এবারের দ্বাদশ পরীক্ষায় দুই অংশেই র‍্যাপ্টর ভার্সন ৩ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

সুপার হেভি অংশে গ্রিড ফিনের সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিন করা হয়েছে, তবে এগুলোর আকার প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই ফিনগুলো রকেটকে বায়ুমণ্ডল থেকে নিরাপদে ফিরে আসতে সহায়তা করে। অন্যদিকে স্টারশিপ অংশে যুক্ত করা হয়েছে বড় জ্বালানি ট্যাংক, কক্ষপথে জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় তাপ প্রতিরোধী উন্নত টাইলস।

স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এই রকেটের মাধ্যমে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো। তবে আপাতত এটি নাসার আর্টেমিস চন্দ্র মিশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নাসা চাঁদে মানুষ পাঠাতে স্পেসএক্সের স্টারশিপের পাশাপাশি জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডারকেও নির্বাচন করেছে। সংস্থাটির একটি সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আর্টেমিস–৪ মিশনে নভোচারীরা প্রথমে নাসার এসএলএস রকেটে মহাকাশে যাবেন। পরে সেখানে স্টারশিপ বা ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চাঁদে অবতরণ করবেন।

স্পেসএক্স তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করছে “দ্রুত ব্যর্থ হও, দ্রুত শেখো” কৌশল। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি দুনিয়ায় এটি একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। এর আগে ১১টি পরীক্ষার মধ্যে ছয়টি সফল এবং পাঁচটি ব্যর্থ হয়েছে।

লন্ডনের কিংস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষক পিটার শ বলেন, “রকেটবিজ্ঞান অত্যন্ত জটিল। এখানে ব্যর্থতা আসবেই। তবে স্পেসএক্স প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়। আরও কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তারা নতুনভাবে সিস্টেম তৈরি করবে এবং সফল হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের পরীক্ষা কোনো প্রোটোটাইপ নয়, বরং এটি চূড়ান্ত উৎপাদন মডেলের প্রথম বড় পরীক্ষা। ফলে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশাল প্রযুক্তিকে বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্যভাবে কার্যকর করা। 

সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঈদ বাজারে অপো এ৬কের নতুন ভ্যারিয়েন্ট
ঈদ বাজারে অপো এ৬কের নতুন ভ্যারিয়েন্ট
স্ত্রীর সামনে অপমান, সইতে না পেরে মা-বাবাকে হত্যা!
স্ত্রীর সামনে অপমান, সইতে না পেরে মা-বাবাকে হত্যা!
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ল
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ল