এভারেস্টের চূড়ায় গাজার শিশুদের বার্তাবাহী ঘুড়ি

গাজার শিশুদের লেখা বার্তা ও স্বাক্ষর বহনকারী একটি ঘুড়ি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনি শিশুদের আশা, স্বপ্ন ও কষ্টের গল্প বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন একদল পর্বতারোহী।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে এভারেস্ট জয় করেন অভিযাত্রী দলটি। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা জর্ডানীয়-ফিলিস্তিনি পর্বতারোহী মোস্তফা সালামেহ সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইতালীয় নির্মাতা ও অভিযাত্রী লিওনার্দো আভেজ্জানোর নেতৃত্বে নেপালি শেরপাদের একটি দল ঘুড়িটি চূড়ায় বহন করে নিয়ে যায়। ঘুড়িটিতে গাজার শিশুদের হাতে লেখা নানা বার্তা ও স্বপ্নের কথা ছিল। অভিযানের মূল উদ্যোক্তা মোস্তফা সালামেহ শারীরিক জটিলতার কারণে শীর্ষে উঠতে পারেননি।
তীব্র শীত ও বাম হাতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি প্রথম শিবিরেই অবস্থান করেন। ৫৬ বছর বয়সি এই পর্বতারোহী গাজার শিশুদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং তাদের বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই অভিযান শুরু করেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সালামেহ বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপ আর যন্ত্রণার মধ্য থেকেও শিশুদের স্বপ্ন পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। এটি শুধু পাহাড়ে ওঠার গল্প নয়, এটি মানবতা ও আশার গল্প।
তিনি আরও বলেন, এভারেস্টের মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল জীবন-মৃত্যুর লড়াই। তারপরও শিশুদের স্বপ্ন বহন করে নিয়ে গেছে আমাদের দল। সালামেহ নেপালি শেরপা সদস্যদের বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের সাহস, অভিজ্ঞতা ও সহায়তা ছাড়া এই অভিযান সফল হতো না।
বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এই পর্বতশৃঙ্গে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম। তারপরও গাজার শিশুদের গল্প বিশ্ববাসীর সামনে পৌঁছে দিতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন অভিযাত্রীরা। সালামেহ বলেন, ফিলিস্তিনিদের কষ্টের তুলনায় এভারেস্টের ঝুঁকি কিছুই নয়। আমি শরণার্থী শিবিরে শিশুর জীবন কেমন, তা জানি।
গাজার শিশুদের যন্ত্রণা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মিসরে গাজার বাস্তুচ্যুত শিশুদের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা আমাকে এই অভিযানের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







