• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সবজির দামে আগুন, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২২ মে ২০২৬, ১২:০৬ পি.এম.
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজি কিনছেন ক্রেতারা। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ ও অসন্তোষ। একই সময়ে মাছ ও গরুর মাংসের উচ্চমূল্য আগেই নাগালের বাইরে থাকায় নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো নিত্যদিনের বাজারে হিমশিম খাচ্ছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর মেরাদিয়া, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দামে স্পষ্ট অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ সবজির মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে টমেটো, গাজর, ফুলকপি, লাউ, আলুসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

সপ্তাহের শুরুতে যে টমেটো কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে গাজরের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। ফুলকপির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা আগে ৮০–৯০ টাকায় মিললেও বর্তমানে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

লাউয়ের বাজারেও একই চিত্র। গত সপ্তাহে প্রতিটি লাউ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের শেষদিকে অনেক সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়েও তার প্রভাব পড়ছে।

তবে সবজির বাজারে পুরোপুরি হতাশা নয়। কয়েকটি পণ্যের দামে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলার দামও ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকায় নেমেছে।

এছাড়া ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও পটল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে এসব দামের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বস্তি নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

সবজির বাজারে যখন অস্থিরতা, তখন মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে।

বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় ১৯০ টাকা। সোনালী মুরগির দামও কিছুটা কমে ৩৫০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ৩৭০ টাকার কাছাকাছি ছিল।

তবে বাজারে লেয়ার মুরগির দাম উল্টো বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে এটি ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ক্রেতারা বলছেন, শুধু সবজি নয়, মাছ ও গরুর মাংসের দামও দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ পরিবারগুলো প্রোটিনজাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে।

অনেকেই জানিয়েছেন, আগের তুলনায় এখন বাজারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। অনেক প্রয়োজনীয় পণ্য বাদ দিতে হচ্ছে শুধুমাত্র দামের কারণে।

মেরাদিয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাগর হোসেন বলেন, আগে একই সঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত। এখন প্রতিটি পণ্য হিসাব করে নিতে হচ্ছে। মাছ-মাংস তো আগেই কম খাওয়া হতো, এখন সবজিতেও কড়াকড়ি করতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা জানান, বাজারে প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। 

এদিকে বাজারে বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে অনেক সবজির মৌসুম শেষের দিকে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে।

মেরাদিয়া বাজারের বিক্রেতা নাজিম উদ্দীন বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হলে খুচরা দামে কমানো সম্ভব হয় না। তাই বাজারে দাম বাড়তি থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা শাহজালাল বলেন, কিছু সবজির দাম কমলেও বেশিরভাগ পণ্যের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজারে ধারাবাহিক অস্থিরতা নিম্নআয়ের মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সবজি, মাছ ও মাংসের দাম একসঙ্গে বাড়ায় দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে আয় স্থিতিশীল থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছে বাজারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২০ দিনেই প্রবাসীরা পাঠালেন ২৬২ কোটি ডলার
২০ দিনেই প্রবাসীরা পাঠালেন ২৬২ কোটি ডলার
১৬৮ কোটি টাকার ডাল কিনবে সরকার
১৬৮ কোটি টাকার ডাল কিনবে সরকার
চলতি মাসে ৪৬০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
চলতি মাসে ৪৬০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক