• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
ফ্রান্স সফর নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন রাসিক প্রশাসক মায়ের নামে প্রতিষ্ঠান নামকরণের প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী সড়কবাতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে ফ্রান্স যেতে চান রাসিক প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ভিসায় নতুন নিয়ম বিতর্কিত বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিতের ইঙ্গিত ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বেশি প্রস্তুত ইরান: আইআরজিসি বিদ্যুতের দামও বাড়ছে, ঘোষণা বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জ্বালানি থেকে শিক্ষা, একাধিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

অর্থনীতির সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছাতে চায় সরকার: মন্ত্রী আমির খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনমুখী করার লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষ্য, এটি কেবল একটি নিয়মিত বাজেট নয় বরং অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় রূপান্তরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার একটি রূপরেখা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইআরএফ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি দুর্বল ও নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অর্থনীতির প্রায় সব সূচক নিম্নমুখী থাকায় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে গতিশীল করতে বড় আকারের বাজেট ও পুঁজি সরবরাহের প্রয়োজন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের জিডিপিতে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা শিপিং খাতের অবদানই নয়, গ্রামীণ নারী, কামার, কুমার, তাঁতি, শীতলপাটি কারিগর, থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে সৃজনশীল অর্থনীতি ও প্রান্তিক উৎপাদকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সহযোগিতায় এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কাছে আধুনিক প্রযুক্তি, সহজ ঋণ সুবিধা এবং অ্যামাজন ও ইবের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিপণনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব গ্রহণ করা হবে না। গৃহকর্ত্রীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল ব্যবস্থায় অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে এনজিও ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সারাদেশে একটি যুগান্তকারী ‘ইউনিভার্সাল প্রাইমারি হেলথকেয়ার’ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পুঁজিবাজার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে এ খাতকে ক্যাসিনোতে পরিণত করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমে বন্ড ও ক্যাপিটাল মার্কেটের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজার ও আইএফসি (IFC) বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি ও অতীতের অনিয়ম কাটিয়ে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার ‘টোটাল ডিরেগুলেশন’ বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। লাইসেন্স, পাসপোর্ট কিংবা বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি অনুমোদনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ফোকাল পয়েন্ট থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দপ্তর সাড়া না দিলে অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে বাধা নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে দেশীয় গাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকার মধ্যে উন্নতমানের গাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।

বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে প্রকল্পের দৈনিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে বিবেচনা করা হবে—ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, জব ক্রিয়েশন এবং এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন। ইতোমধ্যে আগের সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। যেসব প্রকল্প নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলো বাতিল অথবা পুনর্বিন্যাস করা হবে।

দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের এ সময়ে গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণের ধৈর্য ও গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন অর্থমন্ত্রী।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। এছাড়া ইআরএফের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জ্বালানি থেকে শিক্ষা, একাধিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি থেকে শিক্ষা, একাধিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
গবেষণার ফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী
গবেষণার ফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী
ঢাকায় আসছে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকায় আসছে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী