নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া শহর পরিষ্কার সম্ভব নয়: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, একটি শহর শুধু সরকারি বাজেট বা ঝাড়ুদার দিয়ে পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়, যদি না সেখানে নাগরিক সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর নগরভবনে অডিটরিয়ামে আমেরিকান অ্যাফারডেবল কমিউনিটি হেলথ এর উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মতিঝিল এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ, প্রতিটি ভবনের আগিনা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আদর্শ এলাকা গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্ন অগিনা কর্মসূচি শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নামেন। তারা বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হওয়া এই পাইলট কার্যক্রম পুরো শহরের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের কাজ কেবল সচেতনতা তৈরি করা নয়, বরং জনগণের অভ্যাস পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা।
তিনি জানান, ইন্সপেক্টররা প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে এমন স্থান চিহ্নিত ও সচেতন করবেন, নিয়মিত প্রতিটি বাড়ি ও দোকান পর্যবেক্ষণ ও ফলোআপ করবেন।
নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি ইন্সপেক্টররা সরাসরি ময়লা পরিষ্কার করবেন না; তারা নাগরিকদের নিয়ম মানতে সহায়তা করবেন। তাই নিজের আঙিনা ও দোকান পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরই।
তিনি বলেন, সবাই সচেতনভাবে নিয়ম মানলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে, ধুলোবালি ও বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে এবং ড্রেন সচল থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতাও কমবে।
অনুষ্ঠানে তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, ইন্সপেক্টর ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগেই ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঢাকার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডে পরিণত হতে পারে।
এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করার চেয়ে আগে থেকেই আঙিনা পরিষ্কার রাখা অনেক বেশি কার্যকর।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি “আঙিনা পরিষ্কার, শহর পরিষ্কার” কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







